ভবন ভাঙতে ৩ বছর চায় বিজিএমইএ, বৃহস্পতিবার আবেদন

অফিস সরাতে তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করেছে পোশাক শিল্প প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। আজ বুধবার হলফনামা করে আবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএর আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম। তিনি আজ বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার আবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

আইন না মেনে গড়ে তোলা বিজিএমইএর ১৬ তলা ভবন ভাঙাতে রায় দিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা আবেদন গত রোববার খারিজ হওয়ায় রাজধানীর বহুল আলোচিত এই ভবন ভাঙার বিষয়ে আইনি সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেল। বিজিএমইএ অফিস অন্যত্র স্থানান্তরে কদিন সময় লাগবে, তা জানিয়ে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে আবেদন করতে বলেছেন আদালত। ওই দিন এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার দিন ঠিক করা হয়েছে।

ওই দিনই বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে নতুন ভবন নির্মাণ করে অন্যত্র যেতে সময় প্রয়োজন। তাই আদালতের কাছে আমরা তিন বছর সময় চাইব।’

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ রিভিউ আবেদন খারিজ করেন। রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ভবনটি ভাঙার আদেশ বলবৎ থাকছে। রপ্তানি বাণিজ্যের বিষয় সম্পৃক্ত থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ এক বছর সময় প্রার্থনা করেছে। আপিল বিভাগ বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষকে ভবনটি অন্যত্র স্থানান্তরে কদিন সময় লাগবে, তা জানিয়ে আবেদন করতে বলেছেন।

মামলার বৃত্তান্ত
২০১০ সালের ২ অক্টোবর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন ছাড়া বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ বিষয় নিয়ে একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি আদালতের দৃষ্টিতে আনেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ে ওই ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত বছরের ৮ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায়। এতে বলা হয়, ‘বেগুনবাড়ি খাল’ ও ‘হাতিরঝিল’ জলাভূমিতে অবস্থিত ‘বিজিএমইএ কমপ্লেক্স’ নামের ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হলো। এ ক্ষেত্রে ভবন ভাঙার খরচ আবেদনকারীর (বিজিএমইএ) কাছ থেকে আদায় করবে তারা।
রায়ে বলা হয়, ভবন নির্মাণের জন্য জলাধার আইন, ২০০০ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হয়। এখানে তা অনুপস্থিত।