ষোড়শ সংশোধনীর আপিল শুনানি ৮ মে

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানি আগামী ৮ মে পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ এই সময় পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।

আদালত বলেছেন, ৮ মে শুনানির জন্য রাখা হলো। ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুনানি হবে।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। হাইকোর্টের রায়ে সেই সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ আদালত ৭ মার্চ শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে ১২ জন অ্যামিকাস কিউরির নাম ঘোষণা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি শুনানির জন্য আসে। সকালে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রস্তুতির জন্য আট সপ্তাহ সময় আবেদন করেন।

আদালত এই সময় মঞ্জুর করে ৮ মে শুনানির দিন ধার্য করেন। আদালত উপস্থিত অ্যামিকাস কিউরিদের লিখিত বক্তব্য এই সময়ের মধ্যে দাখিল করতে বলেছেন। একই সঙ্গে বক্তব্যের অনুলিপি সংশ্লিষ্টদের সরবরাহ করতে বলেছেন। আদালতে উপস্থিত অ্যামিকাস কিউরি ড. কামাল হোসেনের কাছে আদালত জানতে চান, তিনি তাঁর লিখিত মত দিয়েছেন কি না। জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘প্রস্তুত করে ফেলেছি। চাইলে এখনই দিয়ে দিতে পারি।’

১২ জন অ্যামিকাস কিউরি হলেন টি এইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়া, ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এ এফ হাসান আরিফ, এ জে মোহাম্মদ আলী, আজমালুল হোসেন কিউসি ও এম আই ফারুকী।

বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।