নখকুনির সমস্যায় যা করণীয় » Leading News Portal : BartaBangla.com

ফারজানা তন্বী »

পায়ের নখে নখকুনি হওয়া খুবই যন্ত্রণাদায়ক এক সমস্যা। নখের পাশের প্রান্ত বৃদ্ধি পেয়ে ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করাকেই নখকুনি বলা হয়। নখের বাড়তি অংশ ক্রমাগত ভেতরের দিকে যেতে থাকলে যন্ত্রণা ও ব্যথার সৃষ্টি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও’র ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের পোডিয়াট্রিস্ট (পায়ের পাতা, গোড়ালি এবং পায়ের গঠন সম্পর্কিত সমস্যার চিকিৎসক) জিওরজিয়ানি বুটেক এ বিষয়ে বলেছেন, ‘নখকুনি হলে নখের পাশের ত্বকের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি হয় বলে এর মধ্য দিয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে সংক্রমণ সৃষ্টি করে। যার কারণে আরো অনেক বেশি ব্যথার সৃষ্টি হয়। যদি নখের পাশে লাল হয়ে ফুলে যায়, স্পর্শ করলে গরম অনুভূত হয় এবং খুবই যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা হয় তাহলে সম্ভবত তা সংক্রমিত হয়েছে বুঝতে হবে’।

নখকুনির সাধারণ কারণ:
বংশ পরস্পরা: অনেকেই বাবা-মা উভয়ের থেকেই অথবা একজনের থেকেই উত্তরাধিকার সূত্রে নখকুনির সমস্যাটি পেয়ে থাকেন।

টাইট জুতা পরা: খুব বেশি আঁটসাঁট মোজা ও জুতা পরলে তা নখকুনি সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে কিশোর-কিশোরীরা প্রায়ই নখকুনির সমস্যায় ভোগে।

আঘাত: হঠাৎ করে পায়ের ওপর কিছু পড়লে বা পায়ের ওপর চাপ পড়ে এমন কোনো কাজ, যেমন- দৌড়ানো বা নাচের কারণেও নখকুনি হতে পারে।

নখ কাটার ভুলে: নখকুনি হওয়ার আরেকটি সাধারণ কারণ হচ্ছে অনেক বেশি ছোট করে নখ কাটা। নখ যখন অনেক বেশি ছোট করে কাটা হয় তখন তা নখের পাশের ত্বককে ভাঁজ হতে উৎসাহিত করে। তাই নখ অনেক বেশি ছোট না করে সমান করে কাটুন।

পেডিকিউরঅনেক নারীই পেডিকিউর (বর্তমানে অনেক পুরুষেরাও করেন) করেন। এটা করানো কোনো সমস্যা নয়। তবে দক্ষ কাউকে দিয়ে করানো উচিৎ। নখ কাটার সময় খেয়াল রাখুন যাতে খুব বেশি ছোট করে নখ না কাটে।

নখকুনির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়:
নখকুনির সমস্যার সমাধান ঘরেই করা যায়। যদি আপনার নখকুনির সমস্যায় সংক্রমণের কোনো লক্ষণ দেখা যায়, যেমন – ফুলে যাওয়া, স্পর্শ করলে গরম অনুভূতি, পুঁজ বের হওয়া ও দুর্গন্ধ ছড়ায়; তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সংক্রমণ না হলে যা করতে পারেন-

পা ভিজিয়ে রাখুন:

উষ্ণ পানিতে লবণ বা হালকা ডিটারজেন্ট মিশিয়ে আপনার পা ভিজিয়ে রাখুন। তারপর পা মুছে অ্যান্টিবায়োটিক অয়েন্টমেন্ট লাগান এবং স্থানটি ব্যান্ডেজ করে রাখুন।

নখের বাড়তি অংশটি কেটে ফেলুন:

প্রথমে লবণ পানিতে পা ভিজিয়ে রাখুন। এতে করে পায়ের ত্বক নরম হবে এবং প্রদাহ কমবে। তারপর পরিষ্কার নেইল কাটার দিয়ে নখের বাড়তি অংশটুকু কেটে ফেলুন এবং অ্যান্টিবায়োটিক অয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে রাখুন।

নখকুনির সমস্যাটিকে অবহেলা করবেন না। দীর্ঘদিন এই সংক্রমণ থাকলে তা ছড়িয়ে যেতে পারে এবং জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। নখকুনির সমস্যা সমাধানের জন্য চিকিৎসক ফেনল এবং অ্যালকোহল মেট্রিক্সেক্টমি ব্যবহার করেন।

এ প্রসঙ্গে ডা. বুটেক আরো বলেছেন, মেট্রিক্সেক্টমির সময়ে চিকিৎসক আক্রান্ত নখটিকে অবশ করে নেবেন এবং নখের সমস্যাযুক্ত স্থানটি ফেলে দেবেন। তারপর নখের কোষ থেকে জীবাণুকে ধ্বংস করার জন্য ফেনল প্রয়োগ করা হয়। পুনরায় নখকুনির সমস্যা না দেখা দেয় তার স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায় এই প্রক্রিয়ায়।

নখকুনি হওয়া প্রতিরোধের উপায়:
১. খুব ছোট করে নখ কাটবেন না এবং সব সময় সমান করে নখ কাটুন।

২. সঠিক মাপের জুতা ও মোজা ব্যবহার করুন, যাতে জুতা পরার পরেও আপনার আঙুলগুলো নাড়াতে পারেন।

৩. পায়ের আঙুলে ব্যথা না পান, সেদিকে খেয়াল রাখুন। খেলাধুলা করলে পায়ের ওপর অনেক চাপ পড়ে। তাই খেলা শেষে ১/২ ঘণ্টা খালি পায়ে থাকুন।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

My name is Israt jahan but I am popularly known as Israt Punom. I have completed my Master's degree from Jagannath University. I have been writing almost for four years. During my study I involved with journalism. Currently I am working as Lifestyle Editor in BartaBangla.com. I have interest specially in features writing, technology and lifestyle trend. My hobbies are traveling, reading books and watching TV.

মন্তব্য করুন »