সাতক্ষীরায় মারধরে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৪

পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে মারধরে আহত এক মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহত মুক্তিযোদ্ধার নাম আবুল কালাম আজাদ (৭০)। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা গ্রামে তাঁর বাড়ি।

নিহত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে তুহিন আলম অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা আদায়ে তাগাদা দেওয়ায় তাঁর বাবাকে একরামুল ইসলাম নামের একজন প্রতিবেশী মারধর করে হত্যা করেছেন।

তুহিন আলম বলেন, ঘোনা মোবারকপুর মোড়ে তাঁর বড় ভাই আক্তারুল ইসলামের রড ও সিমেন্টের একটি দোকান রয়েছে। ওই দোকান থেকে তাঁদের প্রতিবেশী একরামুল ইসলাম তিন মাস আগে চার হাজার টাকার মালামাল বাকিতে নেন। ওই পাওনা টাকা ফেরত দিতে গতকাল রাত আটটার দিকে বাবা আবুল কালাম আজাদ তাগাদা দেন একরামুল ইসলামকে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে একরামসহ তাঁর ভাইয়েরা এসে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে একরামুল মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদের চুল ধরে বুকে ঘুষি মারেন। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। রাত ১০টার দিকে তাঁকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দুইটার দিকে তিনি মারা যান।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ইকবাল মাহমুদ জানান, গতকাল রাতে আবুল কালাম আজাদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোগীর স্বজনেরা ওই সময় জানান, মারধরের কারণে বুকে ব্যথা লেগেছে।

সাতক্ষীরা মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার এনামুল হক বিশ্বাস আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবুল কালাম আজাদ একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। শুনেছি মারধরের কারণে গতকাল রাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।’

সাতক্ষীরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্লা জানান, এ ঘটনায় নিহত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে আক্তারুল ইসলাম বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা করেছেন। এর মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মোমিনুল ইসলাম, আবদুল ওয়াদুদ, মুন্না হোসেন ও মো. জনি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

সাতক্ষীরা সদর থানায় গ্রেপ্তার মোমিনুল ইসলাম জানান, তাঁদের ভাই একরামুল ইসলামের কাছে আক্তারুল দোকানের রড ও সিমেন্টের মূল্য বাবদ চার হাজার টাকা পাবেন। তা নিয়ে গতকাল আক্তারুলের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। কিন্তু আবুল কালাম আজাদ কখন অসুস্থ হয়েছেন ও মারা গেছেন, তা তাঁরা জানেন না। আজ ভোররাতে পুলিশ বাড়ি থেকে তাঁদের তুলে নিয়ে এসেছে।