মৌলভীবাজারে-সড়ক ও জনপথের ডাইভারশনে জনদুর্ভোগ » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

IMG_270213_0002 IMG_270213_0003
এস এ চৌধুরী,মৌলভীবাজার:: সড়ক ও জনপথের একটি ডাইভারশনের কারণে জনদুর্ভোগ শুরু হয়েছে। সরজমিন ও সড়কও জনপথ বিভাগের মৌলভীবাজার সার্কেল সূত্রে,জেলা সদর থেকে শমশেরনগরগামী সড়কের মাতার কাপন এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ মৌলভীবাজার এর বাস্তবায়নে ৭৬লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি বক্স কালভার্টের নির্মাণ কাজ  নোভাত এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পেয়ে শুরু করে। ডাইভারশন (বিকল্প সড়ক) করে মুল কালভার্ট ভেঙ্গে কাজ শুরু করা হলেও নিয়মের তোয়াক্কা না করে দায়সারাভাবে কালভার্ট সংলগ্ন পাশের জমিতে ইট বিহীন হালকা মাটি ফেলে ডাইভারশনটি করা হলেও- সঠিকভাবে না হওয়াতে প্রতিনিয়ত এ সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন ধরনের যানবাহনসহ জনজীবনে দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। গত মাসের (ফেব্রুয়ারী) ২৬ তারিখ মঙ্গলবার সিলেট ট ১১০৫১০ নাম্বারের একটি ট্রাক ডাইভারশন অতিক্রমকালে ডাইভারশনের ডানপাশে (শমশেরনগর-মৌলভীবাজারগামী পথে) আটকে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্ঠি হলে এলাকার লোকজনসহ চলাচলকারী অন্যান্য যানবাহনের শ্রমিক-ড্রাইভারের সহযোগিতায় আটকে যাওয়া ট্রাকটিকে সামান্য সরিয়ে কোনো রকম যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। এ সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদের যানবাহন থেকে নেমে গাড়ী ঠেলে ডাইভারশন পার করে মুল সড়কে উঠার দৃশ্য এ প্রতিনিধিসহ অনেকের দৃষ্ঠি এড়িয়ে যায়নি। বিশেষকরে অসুস্থ রোগীদের নিয়ে তাদের পরিবারের লোকজন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী (এক্সিকিউটিভ) মুঠোফোনের মাধ্যমে সত্যতা স্বীকার করে বার্তা বাংলাকে বলেন, ডাইভারশনে সমস্যা হচ্ছে আমি জেনেছি। আজ (বুধবার) আমি কাজের সাইডে যাব। কাচা রাস্তার ওপর বেশী লোড নিয়ে চলাচল করলে সমস্যাতো একটু হবেই। ডাইভারশনের ওপর দিয়ে পাচ-সাত টন চলাচল করার কথা থাকলেও সেখানে ৩০-৫০টন পর্যন্ত যানবাহন চলাচল করছে। পাকা রাস্তার সুবিধাতো কাচা রাস্তায় (ডাইভারশন) পাওয়া যাবেনা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেইলী ব্রিজের সমস্যাও অনেক। ঠিকাদারকে একটা বললে আরেকটা করে । আমাদের দিক থেকে যতটুকু করার আমরা করে দেব বলে তিনি আরো বলেন, দরপত্রের মাধ্যমেই(টেন্ডার) সুমন নামের ঠিকাদার কাজ পেয়ে কাজ করছেন। এটি একটি প্যাকেজ । যার মধ্যে অভিযুক্ত সাইডসহ সামনের দিকে আরেকটি কালভার্টের পাশ বাড়বে এবং চাতলাপুরের (কুলাউড়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা)  দিকে রাস্তা মেরামতসহ ৫০লক্ষ টাকার কাজ। সড়কও জনপথ বিভাগের মৌলভীবাজার সার্কেলের সাবডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (এসডিও ) মুঠোফোনের মাধ্যমে বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে, নরম মাটি এবং ওভার লোডেড  ট্রাক যাওয়াতে চাকা দেবে যায় বলে এবং প্রশ্নোত্তরে বার্তা বাংলার এ প্রতিনিধিকে বলেন,ডাইভারশনের ওপর দিয়ে সাত টনের অধিক যানবাহন না চলাচলের জন্য আমরা রাস্তার দু পাশে সাইনবোর্ড দিয়ে দেই, এর বেশি চলাচল করলে আমরা দেখবনা । আমরাতো আর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে পারবনা। আমাদের বেইলী আছে এখন আমরা দু-এক দিনের মধ্যে বক্সকালভার্টের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে একটি বেইলী  উচু করে দেব যাতে নিচের দিকে কালভার্টটির কাজও করা যায় । এটি একটি প্যাকেজ এ রোডে আরেকটি কালভার্টের পাশ বাড়বে এবং চাতলাপুরের দিকে রাস্তা মেরামতসহ এটি প্রায় ৭৬ লক্ষ টাকার কাজ বলে তিনি জানান। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বা ঠিকাদার সিডিউল মোতাবেক ডাইভারশন করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি (সাবডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার) বলেন, একটি পলিন্ডার  করা ছিল এখন পর্যন্ত দেয়নি,এ ব্যাপারে কথা শোনতেছেনা। কাজের গুণগত মান নিয়ে আশংকা প্রকাশ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেছেন ডাইভারশনের এই অবস্থা হলে কাজের মান কি হবে? এমন আশংকার জবাবে তিনি (সাবডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার) বলেন, আমরা ইঞ্জিনিয়ার আছি কাজের মান সর্বোচ্চ ভালো করার চেষ্ঠা করব।
উল্লেখ্যযে, সড়কও জনপথ বিভাগের মৌলভীবাজার সার্কেলের সাবডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (এসডিও )র সাথে বিষয়টির ব্যাপারে আলাপের পর তার নাম জানতে চাইলে তিনি নাম প্রকাশে অনীহা জানিয়ে বলেন, আপনি একজন এসডিওর সাথে কথা বলছেন,এটা যথেষ্ট নয় কি?
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, সড়ক ও জনপথ বিভাগ মৌলভীবাজারের  নির্বাহী প্রকৌশলী (এক্সিকিউটিভ) ও সড়কও জনপথ বিভাগের মৌলভীবাজার সার্কেলের সাবডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (এসডিও )র বক্তব্যের প্রমাণ এ প্রতিনিধির নিকট রয়েছে।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

আমি ফারজানা চৌধুরী তন্বী। লেখালিখি করি ফারজানা তন্বী নামে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর আজ প্রায় পাঁচ বছর ধরে লেখালিখির সঙ্গেই আছি। বার্তাবাংলা’য় কাজ করছি সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে। আমার বিশেষ আগ্রহের ক্ষেত্র ফিচার, প্রযুক্তি আর লাইফস্টাইল। ভালো লাগে ভ্রমণ, বইপড়া, বাগান করা আর ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে থাকা :)

মন্তব্য করুন »