চকরিয়ায় পরীক্ষার্থীদের বাস খাদে, আহত ১৫

কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থীদের বহনকারী বাস খাদে পড়ে ১৫ জন আহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে চকরিয়া-বদরখালী-মহেশখালী সড়কের ইলিশিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত পরীক্ষার্থীদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যায়।

আহত পরীক্ষার্থীরা হলো আয়েশা ছিদ্দিকা, মোহাম্মদ রিজভী, শাহিনা আকতার, শারমিন আকতার, মো. শহীদ, আরিফুল ইসলাম, হেলাল উদ্দিন, মো. রায়হান, মাহমুদুল ইসলাম, আলী আজগর, এলিজা খাতুন, মোস্তফা জামাল, মনিরা বেগম, হাদিসা আকতার ও নাইমা সুলতানা।

শিক্ষক, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, বাসটিতে ঢেমুশিয়া মোহছেনিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৫৪ জন পরীক্ষার্থী ছিল। সকাল নয়টায় ইলিশিয়া বাজার থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র সাহারবিল আনোয়ারুল ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বাসটি রওনা দেয়। বাসটি ইলিশিয়া বাজার থেকে এক কিলোমিটার পূর্বে মৎস্য প্রকল্প এলাকায় পৌঁছালে একটি টমটম গাড়িকে অতিক্রম করার সময় সড়কের পার্শ্ববর্তী একটি মৎস্য প্রকল্পের খাদে পড়ে যায়। এ সময় আরেকটি মৎস্য প্রকল্পের মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা পরীক্ষার্থীদের উদ্ধারে এগিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেন।

ঢেমুশিয়া মোহছেনিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. মাঈনুদ্দিন বলেন, সড়কের পার্শ্ববর্তী একটি মৎস্য প্রজেক্টে সড়কের নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে সড়কের ওপরের অংশ ঝুঁকিতে পড়ে। পরীক্ষার্থীদের বহন করা বাসটি একটি টমটম গাড়ি অতিক্রম করার সময় সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে চাকা লেগে উল্টে খাদে পড়ে যায়।

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ ছাবের বলেন, আহত পরীক্ষার্থীরা সবাই ঝুঁকিমুক্ত। ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মাথা, পা ও হাতের চামড়া ছিলে গেছে। আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে ব্যান্ডেজ মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে। পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে কান্নাকাটি করলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

সরেজমিনে পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, আহত পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে। তবে তাদের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। আহত পরীক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা বলে, ‘একটা পরীক্ষায় অংশ না নিলে এক বছর পিছিয়ে পড়তে হবে। এ জন্য মাথায় ব্যান্ডেজ লাগিয়েও পরীক্ষা দিচ্ছি। তবে কিছু কিছু প্রশ্নের উত্তর স্মরণে আসছে না। ভয় লাগছে।’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার্থীদের বাস খাদে পড়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে দ্রুত পরীক্ষার্থীদের উদ্ধার করে চিকিৎসা করিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।