কিম জং-নামের মৃত্যুর ঘটনায় আরেক নারী গ্রেপ্তার

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং-উনের সৎভাই কিম জং-নামের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরেক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিমানবন্দরের সিসি টিভি ফুটেজ থেকে ইন্দোনেশীয় পাসপোর্টধারী ওই নারীকে শনাক্ত করা হয়। গত সোমবার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করার সময় বিষ প্রয়োগের কারণে কিম জং-নামের মৃত্যু হয়।

আজ বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, কিমের দেহের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তে কী পাওয়া গেছে, তা এখনো জানায়নি পুলিশ।

এর আগে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ভিয়েতনামের পাসপোর্টধারী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে আদালতে হাজির করা হবে।

মালয়েশিয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক খালিদ বিন আবু বকর জানান, আজ বৃহস্পতিবার ‘কোরীয় পুরুষ’ হত্যায় আরেকজন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিমানবন্দরের সিসি টিভি ফুটেজ থেকে ইন্দোনেশীয় পাসপোর্টধারী এই নারীকে শনাক্ত করা হয়। সন্দেহভাজন আরও কয়েকজনকে পুলিশ খুঁজছে।

মালয়েশিয়া এখন পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেনি। কিম জং-নাম ভ্রমণ করছিলেন কিম চল নামে। তবে দক্ষিণ কোরিয়া তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেছে। জোর গুজব রয়েছে যে উত্তর কোরিয়া এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আজ উত্তর কোরিয়া কিম জং-উন ও কিম জং-নামের বাবা প্রয়াত শীর্ষ নেতা কিম জং-লির ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন করছে।

গতকাল বুধবার কিম জং-উনকে দলের একটি বৈঠকে অংশ নিতে দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নহাপ বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বৈঠকের ফুটেজে কিমকে কঠোর মুখে দেখা গেছে এবং চলে যাওয়ার সময় তাঁকে বিচলিতও মনে হয়নি, অন্যান্য দিনের মতোই ছিলেন।

সেলাঙ্গর পুলিশপ্রধান আবদুল সামাহ ম্যাট বিবিসিকে জানান, কিমের মরদেহের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হয়েছে গতকাল বিকেলে।

গতকাল রাতে উত্তর কোরীয় দূতাবাসের গাড়িগুলোকে কুয়ালালামপুর হাসপাতাল ছেড়ে যেতে দেখা যায়।

গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, উত্তর কোরিয়াকে মরদেহটি দাবি করতে বলা হয়েছে। তবে পুলিশপ্রধান সামাহ জানিয়েছেন, দূতাবাসের কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় তাঁদের মরদেহ নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি। তিনি জানান, অনুরোধ করা হলে উত্তর কোরিয়ার কাছে মরদেহ হস্তান্তরে কোনো আপত্তি ছিল না মালয়েশিয়ার।

দক্ষিণ কোরিয়ার টিভি চ্যানেল চোসান দাবি করেছে, দুজন নারী কিমকে সুই দিয়ে বিষ প্রয়োগ করে ট্যাক্সিতে করে পালিয়ে যান। চ্যানেলটির প্রতিবেদনে ওই দুই নারীকে উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দা বলে দাবি করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সরকারি সূত্রও এ দাবিকে সমর্থন করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি সূত্র বলেছে যে তারা মনে করে, উত্তর কোরিয়ার চরেরাই এ ‘হত্যাকাণ্ড’ ঘটিয়েছে।