রাজধানীতে ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও পিকেটিং » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

hortalবার্তবাংলা রিপোর্ট :: বিচ্ছিন্ন ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও পিকেটিংয়ের মধ্যে দিয়ে ঢিলেঢালাভাবে চলছে বিএনপির ডাকা মঙ্গলবারের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। হরতালের সমর্থনে পিকেটাররা মাঝেমধ্যেই চোরাগোপ্ত‍া ভাবে মাঠে নামলেও সরব উপস্থিতি নেই বিএনপি নেতাকর্মীদের। অপরদিকে হরতাল ঠেকাতে সকাল থেকেই মাঠে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।

সোমবার এক বিবৃতিতে হরতাল পালন করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে জামায়াতের হরতালে প্রতিরোধের ডাক দিলেও `গণতান্ত্রিক দল` হওয়ায় বিএনপির হরতালের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান থাকবে না বলে জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ।

এদিকে হরতালের সমর্থনে সোমবার বিকেল থেকেই রাজধানীতে ককটেলের ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। নয়াপল্টন বিএনপির কার্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। ককটেলের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বাসে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা। এতে বিপুল আতঙ্ক সৃষ্টি হয় জনমনে।

বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টন, কাকরাইল, বিজয় নগর, পল্টন, দৈনিক বাংলা, মতিঝিল, পলাশি, আজিমপুর, কাওরানবাজার, ফার্মগেট, রামপুরা, মালিবাগ, মগবাজার, মৌচাক, মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেলের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

তবে হরতালের শুরুতে মঙ্গলবার ভোরে পিকেটারদের তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়েনি। সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত হরতালের সমর্থনে কোনো পিকেটিং বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

তবে সকাল পৌনে সাতটার দিকে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে আটকের চেষ্টা চাল‍ায় পুলিশ। নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রবেশ পথের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

হঠাৎ ক’জন সাদা  পোশাকের পুলিশ এসে রিজভীকে গাড়িতে তোল‍ার জন্য টানাহেঁচড়া শুরু করে।  এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান।

অন্যান্য নেতাকর্মীদের কারণে শেষ পর্যন্ত রিজভীকে গাড়িতে তোলা সম্ভব না হলেও সেখান থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের মানিক নামে এক কর্মীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

সকাল সাতটার দিকে রাজধানীর মুগদা সবুজবাগে ছাত্রদলের একটি মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেখানে স্থানীয় ছাত্রদল মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়, এ সময় ৬ থেকে ৭টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে।

সকাল সোয়া আটটার দিকে গুলশান-১ নম্বর এলাকায় ১০টি যানবাহন ভাঙচুর করে হরতাল সমর্থকরা। হরতালের সর্মথনে বের হওয়া মিছিল থেকে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে এ ভাঙচুর চালানো হয়।

এ সময় পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে।

প্রায় একই সময় তেজগাঁও থেকেও হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে স্থানীয় ছাত্রদল। এখানেও মিছিল থেকে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

সকাল সাড়ে আটটার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরে ৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় বেশ কিছু যানবাহনে ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করে হরতাল সমর্থকরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান সকাল সাড়ে আটটার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর বাংলা স্কুল ও মিরপুর কবরস্থানের মধ্যবর্তী স্থানের রাস্তায় ১০-১২ জন পিকেটার হঠাৎ করে যানবাহন লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে কয়েকটি গাড়ির কাচ ভেঙ্গে যায়। এ সময় পিকেটাররা পরপর তিনটি ককটেল নিক্ষেপ করে।

সকাল দশটার দিকে পুরান ঢাকার ধোলাইখালে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় পিকেটাররা। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে। আটকৃতরা হলেন- রাগিব, সুমন ও নুরুল ইসলাম। তারা নিজেদের দোকান কর্মচারী বলে দাবি করেছেন।

এদিকে প্রায় একই সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজল ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মুন্না’র নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫জনের একটি দল ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এ সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

সকাল দশটার দিকে মিছিলের চেষ্টা করে শিবিরও। কাকরাইলের নাইটেঙ্গেল হোটেলের পাশের গলি দিয়ে মিছিলটি রাজপথে ওঠার চেষ্টা করে। এ সময় ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল ছুড়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

একই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকাতেও বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক টিএসসি সংলগ্ন ডাশের সামনে পরপর চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় শটগান থেকে চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে কর্তব্যপালনরত পুলিশ। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বেলা সোয়া এগারোটার দিকে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে রাহুল তালুকদার ও সালমান সাদ নামে দুই শিক্ষানবিশ ফটোগ্রাফারকে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে।

নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে ক্যামেরা নিয়ে ঘোরাঘুরির সময় তাদের চ্যালেঞ্জ করে পুলিশ। পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে আটককৃতরা জানান, তারা পাঠশালা নামের একটি ফটোগ্রাফি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।

একই সময় মহাখালী কাঁচাবাজারের সামনে পরপর চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহাখালীতে হরতালের বিরুদ্ধে কয়েকটি সংগঠনের মানববন্ধন চলাকালে হঠাৎ একটি মাইক্রোবাস থেকে ৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামীলীগ কর্মীরা প্রায় ৩০টি মোটরসাইকেলে নিয়ে ধাওয়া করলেও মাইক্রোবাসটিকে আটকাতে পারেননি।

বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আবারও  ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে।

বিএনপি কার্যালয় থেকে ফকিরাপুলের দিকে প্রায় ৬০ গজ দূরত্বে এ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
বিস্ফোরণের পরপরই পিকেটাররা গলিপথে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

প্রায় একই সময় বাসাবো কালভার্ট এলাকাতেও ৭-৮টি ককটেলের বিস্ফোরণের ঘটায় পিকেটাররা।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানী ঢাকার বাসাবো কালভার্ট এলাকায় মিছিল বের করে ছাত্রদল। মিছিলটি পুলিশের বাধার মুখে না পড়লেও এ সময় আতঙ্ক ছড়াতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর মাজার রোডে কয়েকটি লেগুনায় ভাঙচুর চালায় পিকেটাররা। মাজার রোডে কয়েকটি লেগুনা লক্ষ্য করে পিকেটাররা ব্যাপক ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এসময় কমপক্ষে ৪টি লেগুনা ভাংচুর করে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে পুলিশ ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়।

বেলা সাড়ে বারোটার দিকে রাজধানীর পাটুয়াটুলি সুমনা ক্লিনিকের সামনে ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পর পর দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

একই সময় শেওড়াপাড়ায় রাস্তার যানবাহন লক্ষ্য করে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে কয়েকজন পিকেটার। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন জায়গায় পিকেটারদের খোঁজে তল্লাশি চালায়। তবে কাউকে আটক করতে পারেনি। এ সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেয়।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »