রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানির দিন ধার্য রোববার » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

kaader mollaaবার্তবাংলা রিপোর্ট :: জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার সাজা বাড়াতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানির দিন আগামী রোববার ধার্য করবেন আদালত।

মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এদিন ধার্য করেন। সুপিম কোর্টের আপিল বিভাগ শুনানির দিন ধার্যে আদেশ দেবেন। আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

অ্যাটর্নি জেনারেল আপিল শুনানিতে সরকারপক্ষে নেতৃত্ব দেবেন। তাকে সহায়তা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সমন্বয়ক ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান, সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমীরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশনের একটি টিম।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ট্রাইব্যুনাল তাকে ৫টি অপরাধে দায়ী করলেও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দণ্ডাদেশ না দেওয়ায় এবং একটি অপরাধের অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়ায় সাজা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন প্রসিকিউশন।

আপিল দায়েরের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সমন্বয়ক ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান সাংবাদিকদের জানান, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মোট ৫টি অভিযোগ সন্দোহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে বিস্তারিত বর্ণনা আছে। ট্রাইব্যুনাল রায়ে যেসব অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে দোষী সাব্যস্ত করেছেন, সেগুলো উল্লেখ করেই আপিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের তরফ থেকে অপর্যাপ্ত সাজার বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী আপিল বিভাগে ৬০ দিনের মধ্যে এ আপিল নিষ্পত্তি হবে।

কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং একটি রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেননি বলে রায়ে উল্লেখ করেন ট্রাইব্যুনাল। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অভিযোগে কাদের মোল্লার ১৫ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে। চতুর্থ অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রথম অভিযোগ, একাত্তরের ৫ এপ্রিল মিরপুর বাঙলা কলেজের ছাত্র পল্লবকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেন কাদের মোল্লা।

দ্বিতীয় অভিযোগ, একাত্তরের ২৭ মার্চ কাদের মোল্লা সহযোগীদের নিয়ে কবি মেহেরুননিসা, তার মা এবং দুই ভাইকে মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের বাসায় গিয়ে হত্যা করেন।

প্রমাণিত তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ২৯ মার্চ বিকেলে সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেবকে আরামবাগ থেকে কাদের মোল্লা ও তার সহযোগীরা জল্লাদখানা পাম্প হাউসে নিয়ে জবাই করে হত্যা করেন।

পঞ্চম অভিযোগ অনুসারে, একাত্তরের ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনা ও অবাঙালি রাজাকারদের সঙ্গে কাদের মোল্লা মিরপুরের আলোকদী (আলুব্দী) গ্রামে হামলা চালান। ওই ঘটনায় ৩৪৪ জনের বেশি নিহত হন।

ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ২৬ মার্চ কাদের মোল্লা, তার সহযোগী এবং পাকিস্তানি সেনারা মিরপুরের ১২ নম্বর সেকশনে হযরত আলী লস্করের বাসায় যান। কাদের মোল্লার নির্দেশে হযরত, তার স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং দুই বছরের এক ছেলেকে হত্যা করা হয়, ধর্ষণের শিকার হন এক মেয়ে।

তবে ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে বলেছেন, ঘটনা ঘটলেও কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর গণহত্যার সঙ্গে কাদের মোল্লার সংশ্লিষ্টতা সন্দোতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেননি রাষ্ট্রপক্ষ। এটা ছিল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে চতুর্থ অভিযোগে।

এ অভিযোগ অনুসারে, ২৫ নভেম্বর কাদের মোল্লা ও ৬০-৭০ জন রাজাকার কেরানীগঞ্জ থানার ভাওয়াল খানবাড়ি এবং ঘাটারচরে (শহীদনগর) শতাধিক নিরস্ত্র গ্রামবাসীকে হত্যা করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’১৯৭৩ এর বিধান অনুসারে রায় ঘোষণার এক মাস অর্থাৎ ৩০ দিনের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।

তবে ইতিপূর্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনে রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের বিধান ছিল না। শুধু যে কোনো খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারতেন প্রসিকিউশন।

আইনের এ অসামঞ্জস্যতা দূর করতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে পাস করা হয় ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইবুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৩’। এর ফলে উভয় পক্ষই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে। ১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি এ বিলের অনুমোদন দেওয়ায় তা আইনে পরিণত হয়।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »