মাকে ফিরে পেল ছোট্ট ইফতিখার

অবশেষে মাকে পেল ছোট্ট ইফতিখার। গতকাল শনিবার ভারত-পাকিস্তানের ওয়াগাহ সীমান্তে মায়ের হাতে তাকে তুলে দেয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। শেষ হলো এক বছর ধরে চলা এক বিতর্কের।
পাঁচ বছরের ছোট্ট ইফতিখারের জীবনের গল্পটা বেশ ঘটনাবহুল। প্রায় এক বছর আগে তাকে নিয়ে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে ভারতে চলে আসেন তার বাবা। মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় সে। এরপর বহু আইন আদালতের পর গতকাল আবার ইফতিখার ফিরে এল পাকিস্তানে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইফতিখারের বাবা গুলজার আহমেদ ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের সদস্য। পুলিশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় ছিলেন তিনি। এ অবস্থায় ২০১১ সালে সীমান্ত পার হয়ে পাকিস্তান চলে যান গুলজার। সেখানে গিয়ে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বাসিন্দা রুহিনা কাইয়ানিকে বিয়ে করে সংসার পাতেন। ২০১৬ সালের মার্চে হঠাৎ ভারতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন বলে চার বছরের ইফতিখারকে নিয়ে পাকিস্তান ছাড়েন গুলজার। নিজ বাড়ি ভারতের জম্মু কাশ্মীরে চলে আসেন তিনি।

সেখানে পুলিশের হাতে গুলজার গ্রেপ্তার হলে পুলিশি হেফাজতে চলে যায় ইফতিখার। গোয়েন্দারা জানান, গুলজার ইফতিখারকে নিয়ে নেপাল হয়ে ভারতে আসেন। কিছুদিন পর গুলজার জামিনে ছাড়া পেলে ইফতিখারও তাঁর সঙ্গে ছিল।

সন্তানকে ফেরত পেতে রুহিনা গুলজারের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে তারা ইফতিখারকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কোনো সাহায্য করেন না। বরং ভারতীয় হিসেবে সে বাবার কাছে থাকবে বলেই বলা হয়। গুলজারের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিমধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হয় রুহিনার। এরপরই ঘটনা মোড় নেয় অন্যদিকে। ইফতিখার আসলে কোন দেশের, তা নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। মোজাফ্ফরাবাদে একটি অপহরণের মামলা করেন রুহিনা। তিনি দাবি করেন, তাঁর সাবেক স্বামী ইফতিখারকে অপহরণ করে নিয়ে গেছেন। তিনি আরও জানান, ইফতিখার তাঁদের পালক সন্তান। পাকিস্তান থেকেই তাকে দত্তক নেওয়া হয়। ইফতিখারের পাসপোর্ট পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে। তাই পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে ইফতিখারের পাকিস্তানেই থাকা উচিত বলে দাবি করেন তিনি।

তবে রুহিনার এ দাবিকে অস্বীকার করেন গুলজার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা দাবি করেন ইফতিখার গুলজারের আপন সন্তান। মা-বাবা আলাদা হয়ে যাওয়ায় সে স্বেচ্ছায় বাবার সঙ্গে থাকতে চেয়েছে।

রুহিনা পাকিস্তান সরকারের হস্তক্ষেপ চান। ওই বছরের মে মাসে ভারতের আদালতে পাকিস্তান হাইকমিশনের সহায়তায় রুহিনার পক্ষে একটি মামলা করা হয়। আদালতে ইফতিখার পাকিস্তানের বলে প্রমাণিত হয়। তাকে তার মায়ের কাছে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে সীমান্ত উত্তেজনার কারণে সন্তানকে ফিরে পেতে আট মাস অপেক্ষা করতে হয় রুহিনাকে।

অবশেষে গতকাল ইফতিখারকে ফিরে পেয়ে নিজের প্রতিক্রিয়ায় রুহিনা বলেন, ছেলেকে ফিরে পেয়ে আমি আজ অসম্ভব খুশি। আমি পাকিস্তান সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, ‘বাচ্চাকে ফিরে পাওয়ার সব আশাই আমি হারিয়ে ফেলছিলাম। ওকে অলৌকিকভাবে ফিরে পেলাম বলে মনে হচ্ছে।’