মেয়রের বাসা থেকেই গুলি ছোড়া হয়

বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ছাত্রলীগ নেতা বিজয়ের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বের করে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী এবং কান্দাপাড়া গ্রামবাসী।

মিছিল থেকে বিক্ষুব্ধরা মেয়রের বাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়লে ভেতর থেকে ২০/২৫ জন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মিছিলটিকে ধাওয়া দেয়। সেখানে কর্তব্যরত সমকালের সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল ও আমার সংবাদের প্রতিনিধি জহুরুল ছবি তুলছিলেন।

শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শাহজাদপুর থানার সামনে দাঁড়িয়ে এভাবেই ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী আবুল হোসেন চাঁদ।

তিনি বলেন, বাসা থেকে বেরিয়ে আমি ওই রাস্তা দিয়েই নামাজ পড়তে যাচ্ছিলাম। শিমুলকে ছবি তুলতে দেখে পেছন থেকে ডাক দেই, সে আমার কাছে আসে। তখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারপরও আমরা কিছুটা হাসি ঠাট্টা করি। হঠাৎ বিকট আওয়াজ, এরপর আবার! সঙ্গে সঙ্গে আমার বুকের উপর পড়ে গেলো শিমুল।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আমার সংবাদের শাহজাদপুর প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম বলেন, ছবি তুলতে তুলতে আমি আর শিমুল ভাই মিছিলের পেছন দিকে গিয়েছিলাম। এক পর্যায়ে ব্যক্তিগত শর্টগান নিয়ে বের হন মেয়র হালিমুল হক মিরু- এই ছবি তোলেন শিমুল। তখনই মাটিতে ঢলে পড়েন তিনি। দেখলাম তার মুখের উপর গুলি লেগেছে।

জহুরুল আরও জানান, মেয়রের হাতেই শর্টগান ছিলো এবং গুলিটি মেয়রের বাসার দিক থেকে এসেই লেগেছে।

একই মত জানান, শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বিমল কুন্ডু ও সদস্য তৌহিদ। তারা বলেন, মেয়র নিজ হাতে গুলি করে শিমুলকে হত্যা করেছে। অবিলম্বে মেয়র হালিমুল হক মিরু ও তার ভাইদের গ্রেফতার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে সাংবাদিকরা।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুব ওয়াহিদ কাজল জানান, শর্টগান হাতে মেয়রের ছবি তোলায় সাংবাদিক শিমুলকে গুলি করেন হালিমুল হক মিরু।

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হালিমুল হক মিরু। তিনি জানান, “মিছিলকারীরা আমার বাড়িতে আক্রমণ করলে তাদের ভয় দেখাতে আমি শর্টগান থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়েছিলাম”।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) আবুল হাসনাত জানান, তদন্তে উঠে এসেছে মেয়রের বাসার দিক থেকে গুলি ছোড়া হয়েছিলো। সেখানে গুলির খোসাও পাওয়া গেছে। তার ব্যক্তিগত শর্টগানটি বৃহস্পতিবার বিকেলেই জব্দ করা হয়েছে।

এদিন ময়নাতদন্ত শেষে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আকরামুজ্জামান জানান, শিমুলের মস্তিষ্কে গুলি পাওয়া গেছে। তার চোখ দিয়ে গুলি ঢুকে মস্তিষ্কে আটকে যায়।

তিন সদস্যের একটি টিম ময়নাতদন্ত করে। সিভিল সার্জন মঞ্জুর রহমান ময়নাতদন্তের সময় উপস্থিত ছিলেন।