ব্যাংক কোম্পানি ২০১৩ আইনের খসড়ায় অনুমোদন » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

bankবার্তবাংলা রিপোর্ট  :: সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০১৩ এর খসড়ায় এই অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা পরে সাংবাদিকদের জানান, আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এ খসড়া আবারো মন্ত্রিসভায় তোলা হবে।

সচিব বলেন, খসড়া আইনের ২৬(ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক অন্য কোনো কোম্পানির শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে ওই কোম্পানির আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, সংবিধিবন্ধ সঞ্চিতি, রিটেইল আর্নিং এর মোট পরিমানের ৫ শতাংশ এবং ওই কোম্পানির আদায়কৃত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না।

তবে শরিয়া ব্যাংকিং বা ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে কোনো সংশোধনী আনা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

সচিব বলেন, “পুঁজি বাজারে ব্যাংকের অংশগ্রহণ নিয়ন্ত্রত করার জন্য এ উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি হ্রাস এবং পুঁজি বাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করার জন্য এ উদ্যেগ।”

এর ব্যাখ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, আইনটি পাস হলে কোনো ব্যাংক তাদের আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, সংবিধিবন্ধ সঞ্চিতি, রিটেইন আর্নিং এর মোট পরিমাণে ২৫ শতাংশের বেশি পঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে না।

বর্তমানে কোনো ব্যাংকের বিনিয়োগের পরিমাণ ২৫ শতাংশের বেশি থাকলে তা তিন বছর সময়ের মধ্যে কমিয়ে আনতে হবে।

এতোদিন ব্যাংকগুলো তাদের দায়ের ১০ শতাংশ অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারত।

ব্যাংক কোম্পানি আইন লংঘন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যক্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা করতে পারবে। নির্ধারিত সময়ে জরিমানা আদায় না হলে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে বাড়বে জরিমানার পরিমাণ।

এছাড়া সমবায় সমিতির নামে কেউ যেন ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে না পারে সে ব্যবস্থাও এ আইনে নেয়া হয়েছে বলে জানান সচিব।

তিনি বলেন, “ব্যাংক শব্দের ব্যবহার করে যেন কেউ প্রতারণা করতে না পারে সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সমবায় সমিতি আইনে এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে।”

মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা বলেন, এ আইন সংশোধনের বিষয়টি সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আইন সংশোধন করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএফএফ) বর্ধিত ঋণ সুবিধার শর্তেও এ বিষয়টি ছিল বলে সচিব জানান।

এ আইনের প্রয়োগ স্থগিত করার প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে সে উদ্যেগ নিতে পারবে। আগে কেবল সরকারই তা করতে পারত।

সচিব বলেন, প্রস্তাবিত আইনে খেলাপি ঋণ গ্রহীতার সংজ্ঞা আরো স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মেয়াদ পার হওয়ার ছয় মাস পরও ঋণ বা সুদ আদায় না হলে তা খেলাপি ঋণ হিসাবে গণ্য করা হবে নতুন আইনে।

এ আইন পাস হলে ব্যাংকের পরিচালকের মেয়াদ হবে ৩ বছর। এতোদিন ব্যাংকগুলো আলাদা আলাদা নিয়ম অনুসরণ করত।

একজন পরিচালক পরপর দুই মেয়াদ পরিচালক থাকতে পারবেন। এরপর মাঝখানে বিরতি দিয়ে আবারো পরিচালক হতে পারবেন তিনি। তবে বর্তমানে যারা ২ মেয়াদের বেশি রয়েছেন তারা তাদের মেয়াদ পূর্ণ করবেন।

আইনটি পাস হলে একই সময়ে একই ব্যাক্তি বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হতে পারবেন না বলেও জানান সচিব।v

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »