ধূমপান ছাড়বেন যেভাবে

ফুসফুসের ক্যান্সারসহ নানান রোগের কারণ ধূমপান। কেউ কেউ এতে এতটাই আসক্ত হয়ে গেছেন যে তাদের পক্ষে ধূমপান ছাড়াটা যেন একপ্রকার অসম্ভবই হয়ে গেছে। কিন্তু একটা কথা আছে না ‘নাথিং ইজ ইমপস্যাবল’। তাই ধূমপানের মতো ব্যাপারটা ত্যাগও অসম্ভব নয়। শুধু দরকার তীব্র আগ্রহ ও সচেতনতা।

ধূমপান ত্যাগে সহায়ক তেমনই কয়েকটি উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো :

পরিকল্পনা :

ধূমপান ছাড়ার বিষয়টি শুধু ইচ্ছা থাকলেই হয় না, এ ক্ষেত্রে পরিকল্পনা করা হলে তা কাজে আসতে পারে। আপনি যেমন ধূমপান করা শিখেছিলেন তেমন ধূমপান ত্যাগ করাও শেখা প্রয়োজন। এ জন্য ধূমপান ত্যাগ শেখার জন্য পরিকল্পনায় একটি স্থান রাখুন। আর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরুর আগে সে জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নিন যেন পরিকল্পনা মাঝপথেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত না হয়।  এ ছাড়া সপ্তাহে একদিন করে ধূমপান ত্যাগ করার পরিকল্পনা করতে পারেন। কোনো নির্দিষ্ট বেলায় ধূমপান ত্যাগ করতে পারেন। ক্রমে এ ধূমপানবিহীন বেলা বা দিবসের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে।

অপরের সাহায্য নিন :

পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব কিংবা অভিভাবককে বলুন আপনার ধূমপান ছাড়ার ইচ্ছের কথা। এতে তারাও নিশ্চয়ই সাহায্যের হাত বাড়াবে। ধূমপান ত্যাগের জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক শক্তিরও যোগান আসবে তাদের কাছ থেকে।

স্বাস্থ্যগত বিষয় জানুন :

আপনি যদি কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগেন তাহলে তার সঙ্গে ধূমপানের সম্পর্ক জেনে নিন। ধূমপানের কারণে স্বাস্থ্য ইন্স্যুরেন্সের খরচ কতখানি বাড়ছে তা জেনে নিন। অন্য রোগের সম্ভাবনাও জানুন। এতে ধূমপান ত্যাগ সহজ হবে।

টাকা বাঁচান :

প্রতিদিন ধূমপানের পেছনে আপনি কত টাকা খরচ করেন তা জেনে নিন। একজন ব্যক্তি যদি দিনে ২০০ টাকা করে ধূমপানের পেছনে খরচ করে তাহলে তা মাস শেষে কমপক্ষে ছয় হাজার টাকা খরচের ধাক্কা সামলাতে হয়। আর বছর শেষে এ টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৭২ হাজার টাকারও বেশি। আর এ টাকা একত্রে জমাতে পারলে বহু ভালো কাজেই ব্যয় করা সম্ভব। তাই আপনার ধূমপানের পেছনে আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি জেনে রাখুন।

প্রতিষ্ঠানের পলিসি জানুন :

বহু প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলো ধূমপান করেন না বা ধূমপান ত্যাগ করেছেন এমন কর্মীদের বিশেষ প্রণোদনা দেয়। আপনার প্রতিষ্ঠানে এমন কোনো প্রণোদনা থাকলে তা জেনে নিন। এতে ধূমপান ত্যাগ করার পেছনে বাড়তি উৎসাহ পাওয়া যাবে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমনটা উদ্যোগ কোনো প্রতিষ্ঠানের আছে কিনা তা একপ্রকার দূরূহ বটে। উন্নত বিশ্বে অনেক প্রতিষ্ঠানের-ই ধূমপানসংক্রান্ত পলিসি আছে। তাই অামাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে।