বার্তাবাংলা ডেস্ক »

চট্টগ্রামের দেওয়ান বাজার এলাকায় একটি বাড়িতে বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়েছেন দাদি ও দুই নাতি-নাতনি, তাদের দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শুক্রবার ভোরে পশ্চিম বাকলিয়া দেওয়ান বাজার এলাকায় একটি ভবনে এই ঘটনা ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।

আগুন লাগার আগে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটেছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে ওই বিস্ফোরণের কারণ কী, তা এখনও জানা যায়নি।

আহতরা হলেন ছমুদা খাতুন (৭০), নাতি আরিফ (২৬) ও নাতনি ইফতি (১৭)। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক অধ‌্যাপক এস খালেদ জানান, দাদি ও নাতনির দেহের ১০০ ভাগ্ পুড়েছে। নাতি আরিফের পুড়েছে দেহের ২৫ শতাংশ।

কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল সেখানে কাজ করছে।

এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিভিয়ে দগ্ধ অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের চন্দনপুরা স্টেশনের কর্মকর্তা রবিউল আজম।

তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা আরেবীয়া খায়েরিয়া এতিমখানা’ ভবন নামে ছয়তলা ওই ভবনের তৃতীয় তলায় বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনা ঘটে।

রবিউল জানান, ভবনটির নামে এতিমখানা লেখা থাকলেও সেখানে কোনো এতিম থাকেন না।

ভবনটির মালিক আনোয়ারার বাসিন্দা মোহাম্মদ সালেহ। তার ছেলে মোহাম্মদ সোহেল সালেহ মাদ্রাসা ও এতিমখানার অধ‌্যক্ষ।

সোহেল সালেহ বলেন, আনোয়ারার রায়পুরের পড়ুয়া পাড়া গ্রামে এতিমখানাটি অবস্থিত। দেওয়ান বাজারের এই ভবনের ভাড়া দিয়ে এতিমখানাটি পরিচালিত হয়। ভবনের ৩৫টি ফ্ল্যাটই ভাড়া দেওয়া বলে সোহেল জানান। এটি দেখাশোনা করেন তার ফুপাত ভাই দেওয়ান বাজারের বাসিন্দা ইসমাইল।
যে ঘরে (ফ্ল্যাট নম্বর ৩-০১) বিস্ফোরণ হয়েছে সেটি প্রবাসী আবদুল মোতালেব ভাড়া নেন বলে জানান সোহেল সালেহ।

ছয়তলা ভবনটি নির্মাণের পরপরই ২০০৮ সালে তৃতীয় তলার ওই ফ্ল‌্যাটটি ভাড়া নেন মোতালেব। তার স্ত্রী তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ওই বাসায় থাকতেন।

সোহেল সালেহ বলেন, “কিছুদিন আগে আবদুল মোতালেব দেশে আসেন। তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়ায় তার গ্রামের বাড়িতে গেছেন। বাসায় তার মা ও সন্তানরা ছিল।”

আগুন লাগার আগে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটেছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ওই ভবনের তৃতীয় তলার বাসিন্দা (ফ্ল্যাট নম্বর ৩-০৬) শহীদুল ইসলাম বলেন, “ফজরের নামাজের আগে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এতে আমার ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়।”

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা রবিউল বলেন, “বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশে পাশের ভবনের জানালার কাচও ভেঙে পড়ে। এরপর বাসাটিতে আগুন ধরে যায়।”

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ওই বাসার ভেতরে গ্যাস জমা হয়েছিল।

“আগুনের বর্হিমুখী চাপে ভবনের দেয়াল ভেঙে সামনের ভবনে গিয়ে পড়লে সেটির গ্রিল বেঁকে গেছে। বাসাটির বাথরুমের দেয়াল ভেঙে পাশের ভবনের দেয়ালও ভেঙে গেছে।”

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা রবিউল বলেন, “বাসায় কোনো গ্যাস সিলিন্ডারও ছিল না, বৈদ্যুতিক কোনো ত্রুটিও পাওয়া যায়নি। কী কারণে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা তদন্ত করে বলতে হবে।”

পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, “আমাদের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা কাজ করছে। তারা সুইপিং শেষে জানাবে সেখানে গিয়ে পাওয়া গেছে।”

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »