বার্তাবাংলা ডেস্ক »

rizviবার্তবাংলা রিপোর্ট  :: বর্তমানে দেশে যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি চলছে, সরকার সে পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

তিনি আরো বলেন, সরকার বিএনপির ডাকা মঙ্গলবারের সকাল-সন্ধ্যা হরতালকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাসা বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে। তাদের আটক ও পরিবারের সদস্যদের দুর্ব্যবহার করছে পুলিশ। এছাড়া নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।

সরকারের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।

তিনি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “সরকার এগুলো বন্ধ না করলে বিএনপি আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের নামে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা বলে অভিযোগ করে এসব মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি না দিলে আরো হরতালসহ কঠিন কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন রিজভী আহমেদ।

সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেসব্রিফিঙে এসব কথা বলেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির শনিবারের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ পরিকল্পিতভাবে আকষ্মিকভাবে বিনা উস্কানিতে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। উল্টো দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের আসামি করে শাহজাহানপুর ও রমনা থানায় তিনটি মামলা করেছে। এরপর বিস্ফোরক ও দ্রুত বিচার আইনে পল্টন থানায় আরো দু’টি মামলা করেছে।

এসব মামলাকে তিনি মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন উল্লেখ করে অবিলম্বে সেগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানান।

রিজভী আহমেদ দাবি করেন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, আবদুল্লাহ আল নোমানসহ সিনিয়র নেতারা যে মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন সেই মিছিল থেকে কোনো নাশকতা করার প্রশ্নই আসে না। বরং পুলিশই বিনা উস্কানিতে মিছিলে হামলা করেছে। তারা মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। এসব ঘটনা সরকার নিজেরা তাদের লোকদের দিয়ে ঘটিয়েছে।গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ এনে রিজভী বলেন, সরকার মিডিয়ার মালিকদের হুমকি দিয়ে ‘পেইড নিউজ’ করিয়ে সত্য ঘটনাকে আড়াল করছে। সংবাদকর্মীরা আসল সত্য তুলে ধরতে পারছেন না।

তিনি বলেন, পিতার চামড়া দিয়ে যিনি ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছিলেন, তাকে মন্ত্রিসভায় রেখে পিতার মর্যাদাকে অসম্মান করেছেন শেখ হাসিনা। শায়খুল হাদিসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের চুক্তির সময় মতিয়া চৌধুরী বলেছিলেন, রাজনৈতিক কৌশলে অনেক কিছু করতে হয়।

সরকার আগামী দিনে আরো কঠোর হবে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘সরকারতো পুলিশ বিজিবি পরিবেষ্টিত হয়ে অনেক হুমকি-ধামকি দেয়। আমরাতো বন্দুকের নলের মুখে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করছি। তারা বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে কমিটি করে পুলিশ ও র‌্যাবের মাঝখানে বসে থাকে।’’

রিজভী আরও বলেন, ‘‘সরকার যদি মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে না পারে, তবে বিএনপি মানুষের জান-মাল রক্ষা ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে ‘কমিটি ফর পাবলিক সেফটি’ গঠন করবে। ফরাসী বিপ্লবের সময়ও রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের কমিটি ফর পাবলিক সেফটি করা হয়েছিল। এ কমিটির মাধ্যমে আমরা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।’’

প্রেস ব্রিফিঙে মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার, এবিএম মোশারফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »