বার্তাবাংলা ডেস্ক »

hortal rajdhaniবার্তবাংলা রিপোর্ট  :: যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতায় জামায়াতের টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের দ্বিতীয় দিন শুরু হয়েছে ঢিলেঢালাভাবে।

জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবির কর্মীরা সোমবার সকালে রাজধানীর কয়েকটি স্থানে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করলেও পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় কয়েকজনকে আটকও করা হয়।

আগের দিনের মতোই বিপুল পরিমাণ পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে রাজধানীর সড়কগুলোতে। মালিবাগ, শান্তিনগর, রামপুরা, পল্টন, মতিঝিল, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেইট, তেজগাঁও, মহাখালী, বাড্ডাসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সকাল থেকেই রাস্তায় রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করছে। গণ পরিবহনের সংখ্যাও হরতালের প্রথম দিনের তুলনায় বেশি।

সকালের প্রথমভাগে গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূর পাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। তবে কমলাপুর স্টেশন থেকে সব ট্রেন যথারীতি ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্টেশন মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন খান।

এদিকে গত কয়েক দিনে বিভিন্ন স্থানে রেললাইন উপড়ে ফেলা এবং ট্রেন ও স্টেশনে আগুন দেয়ার মতো ঘটনা ঘটায় রেলের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। লাইনের ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ‘লাইন পাহারা’ বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি গাড়িতে রেল পুলিশের সংখ্যা ১২ জন থেকে বাড়িয়ে ১৫ জন করা হয়েছে।

সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এ সময় পুরিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

খিলগাঁও থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৫ শিবিরকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হরতালকারীরা সকাল ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ী মোড়ে বিআরটিসির একটি বাসে আগুন দেযার চেষ্টা করে। তবে চালক দ্রুত চালিয়ে সেখান থেকে সরে যান।

রায়েরবাগে বুধবার সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা হওয়ায় সোমবার সেখানে কয়েকটি এপিসি (আর্মড পুলিশ ক্যারিয়ার) ও বিপুল সংখ্যাক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল থেকে সেখানে হরতালের সমর্থনে কোনো মিছিল দেখা যায়নি বলে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই এমরানুল ইসলাম জানান।

তবে শিবির কর্মীরা সকালে শ্যামবাজার এলাকায় মিছিল বের করলে দুজনকে আটক করা হয় বলে সূত্রাপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় আসার পর গত বৃহস্পতিবার সারা দেশে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় জামায়াত শিবির কর্মীরা। রায় প্রত্যাখ্যান করে রবি ও সোমবার সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার এই হরতাল ডাকা হয়।

বৃহস্পতিবার জামায়াতের সহিংসতার সময় গুলিতে হতাহতের ঘটনায় মঙ্গলবারও সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জামায়াতের প্রধান শরিক বিএনপি।

রোববার রাজধানীর পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত থাকলেও বগুড়া, জয়পুরহাট, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহসহ কয়েকটি জেলায় ব্যাপক সহিংসতা চালায় জামায়াত কর্মীরা। সংঘর্ষের সময় নিহত হন অন্তত ১৯ জন। মুন্সীগঞ্জে একটি হিন্দু মন্দিরে আগুন দেয়া হয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, হরতালে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে তারা প্রস্তুত আছেন।

শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকেও হরতাল প্রত্যাখান করে জনগণকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »