ভারত মহাসাগরে চীনের ডুবোজাহাজ, উদ্বেগ দিল্লির

চীনের একটি ডুবোজাহাজ ভারত মহাসাগরে অবস্থান নিয়েছে। এই মুহূর্তে সেটি মালয়েশিয়ায় কোটা কিনাবালু এলাকায় মহাসাগরের অংশে রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। এই ডুবোজাহাজের উপস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী।

এর আগে গত বছরের মে মাসে পাকিস্তানের করাচিতে আরও একটি চীনা সাবমেরিন নোঙর করা ছিল—এমন একটি ছবি গুগল আর্থ ইমেজে ধরা পড়ে বলে এনডিটিভির খবরে জানানো হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয়েশিয়ার নৌবাহিনীর অফিসিয়াল টুইটার পাতায় যে ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে দেখা যায়, চীনের ডুবোজাহাজটি ০৩৯ ‘সং’ শ্রেণির ডিজেল-ইলেকট্রিক ডুবোজাহাজ। এই ডুবোজাহাজের ‘সাপোর্ট’ হিসেবে বৃহৎ আকারের আরেকটি জাহাজও সেখানে রয়েছে।

গত রাতে প্রকাশিত চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে টহল শেষে চীনে ফেরার সময় মালয়েশিয়া উপকূলে নাবিকদের বিশ্রামের জন্য ডুবোজাহাজটি অবস্থান নেয়।

তবে তাদের এ বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী। তাদের দাবি, ওই সাবমেরিনের মতো উন্নত সামরিক যান সোমালিয় জলদস্যুদের জন্য ব্যবহার করার কথা নয়। চীনের সাবমেরিনটি গত মঙ্গলবার থেকে কোটা কিনাবালুতে নোঙর করে এবং সেটি শনিবার চলে যাওয়ার কথা ছিল।

ভারত বর্তমানে মাত্র একটি একক পারমাণবিক ডুবোজাহাজ পরিচালনা করছে। সেটি রুশ নকশায় করা আকুলা-২ শ্রেণির, যা ‘আইএনএস চক্র’ নামে পরিচিত। এ ছাড়া ভারতের দেশীয় ডুবোজাহাজ ‘আইএনএস আরিহান্ত’ সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

ভারতের আরও কয়েকটি পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু আগামী এক দশকের আগে সেগুলো নৌবহরে যুক্ত করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, চীনের কাছে রয়েছে ৫৬টি ডুবোজাহাজ। এর বাইরে ১২ থেকে ১৫টি পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ডুবোজাহাজ নির্মাণের শেষ পর্যায়ের দিকে রয়েছে দেশটি।