সাভারে সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি

বৃহস্পতিবার (০৫ জানুয়ারি) ভোর তিনটায় শুরু। প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ করে নির্বিঘ্নে ১০টির মতো যানবাহনে ফ্রি স্টাইলে ডাকাতি করে পালিয়েছে ডাকাত দল।

ঘটনাস্থল সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ড।

আনোয়ার জং নামে পরিচিত সিঅ্যান্ডবি-আশুলিয়া সড়কের সরকারি ছাগল উন্নয়ন খামারের সামনে চলে ডাকাতদলের এ তাণ্ডব।

সকালে ডাকাতদের গ্রেপ্তারের পরিবর্তে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলের আলামত সরিয়ে ফেলার দিকেই তৎপরতা বেশি দেখা যায় পুলিশের।
দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার ব্যাপারে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ডাকাতির ঘটনা শুনে তিনি যেন আকাশ থেকে পড়েন।

‘এমন ডাহা মিথ্যা খবর কোথায় পেলেন?’ উল্টো প্রশ্ন তুলে বলেন, না তো। কোথাও ডাকাতি হয়নি।

তবে ব্যস্ততম সড়কে ডাকাতির ঘটনাটি চেপে গিয়ে তিনি বলেন, ওখানে সবসময় পুলিশ থাকে। তাহলে কি পুলিশের সামনেই এই কাণ্ড ঘটেছে? এমন প্রশ্নের কোনো উত্তরও দেননি তিনি।

ডাকাতের হামলার শিকার গাড়ি চালক মো. আলী বাংলানিউজকে বলেন, ভোর তিনটার দিকে ওই সড়কের কলমার ঢাল ও ছাগল উন্নয়ন খামারের সামনে দীর্ঘ জটে আটকে পড়েন তিনি। ভেবেছিলাম কুয়াশায় কোনো গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়েছে, তাই হয়তো এ যানজট।

কিছুক্ষণের মধ্যেই হৈ হৈ করে ধারালে অস্ত্র নিয়ে ছুটে আসা মুখোশধারী ডাকাতরা আমার গলায় ছুরি ধরে বলে, যা আছে দিয়ে দে। তারা আমার মোবাইল, টাকা সবকিছুই ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক সংলগ্ন সাভার দুগ্ধ প্রজনন কেন্দ্রের দেয়ালের বাইরে থাকা বড় একটি বড় কড়াই গাছ কেটে ওই সড়কে ব্যারিকেড দেয় ২৫ থেকে ৩০ সদস্যের একদল ডাকাত। এসময় ওই সড়কে চলাচলরত বেশ কয়েকটি প্রাইভেটকার ও পিকআপ ভ্যানে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ডাকাতি করে ডাকাতরা। লুটে নেয় নগদ টাকা স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন। ডাকাতির সময় বাধা দেওয়া হলে ডাকাতরা বেশ কয়েকটি গাড়ির ৭ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

এদিকে ওই ডাকাতির সময় ডাকাতদের ধাওয়া খেয়ে একটি ক্যাভার্ড ভ্যান খাদে পড়ে গুরুতর আহত হন ৩ জন। ডাকাতরা এসময় ডেইরি ফার্মের একটি প্রাচীরও ভেঙ্গে ফেলে। ভয়ে ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা ভীতসন্তস্ত্র হয়ে বসে থাকলে তারা বেশ কয়েকটি গাড়ি ও গাড়ির কাচ ভাংচুর করে। এঘটনায় ওই সড়কে প্রায় তিনঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। সকালে খবর পেয়ে পুলিশ গাছগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে নিলে ওই সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

সড়ক ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, এই সড়কে এর আগেও এভাবে ডাকাতি হলে নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।