ফিশারের মৃত্যুর একদিন পরই মারা গেলেন মা রেইনল্ড

মেয়ে ক্যারি ফিশার হার্টঅ্যাটাকে মারা গেলেন ২৭ ডিসেম্বর। স্টার ওয়ার্স-এর ‘প্রিন্সেস লেইয়া’ হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিতি পেয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর একদিন পরই মারা গেলেন তাঁর মা, ডেবি রেইনল্ড। ডেবির বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে—এই আশঙ্কায় ২৮ ডিসেম্বর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে। হাসপাতালে নেওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তিনি মারা যান।

এ যুগের খুব কম মানুষই তাঁকে চিনবেন। আমরাও, যারা মুগ্ধ হয়ে এখনো হলিউডের পুরোনো ছবিগুলো দেখি, তাঁদের অনেকের মন থেকেও হারিয়ে গিয়েছিলেন ডেবি। কিন্তু ‘সিংগিন ইন দ্য রেইন’ ছবিটির কথা মনে হলেই ডেবির চেহারা ভেসে ওঠে। বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করি, কী ভীষণ প্রাণবন্ত একজন মানুষকে দেখছি পর্দায়। চলচ্চিত্রের নির্বাক যুগের একজন চালচুলোহীন অভিনেত্রী কীভাবে দর্শকের ভালোবাসা জয় করল, সেটা দেখতে দেখতে সত্যিকারের সুখ এসে যেন গ্রাস করে নেয় দর্শককে। সে ছবির গান আর অনবদ্য নাচ যেন এখনো ভাসে চোখে।

তাঁর মেয়ে ক্যারি ফিশার মারা যাওয়ার পর এখন বেঁচে আছেন ছেলে টড ফিশার, যিনি প্রযোজক ও অভিনেতা।

ডেবির সঙ্গে এলিজাবেথ টেলরের একটা দ্বন্দ্বযুদ্ধ ছিল। যখন ডেবি হ​লিউডি ছবির অন্যতম ব্যস্ত তারকা, তখন তাঁর স্বামী গায়ক এডি ফিশার এলিজাবেথ টেলরের সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করছেন। ফলে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। লিজ টেলর আর ​এডি ফিশার বিয়ে করেন ১৯৫৯ সালে। ফিশারকে এ দুই নায়িকাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। ডেবি আর টেলরের মধ্যে পরে সুসম্পর্কের সৃষ্টি হয় এবং ২০০১ সালে তাঁরা দুজন টেলিভিশনের জন্য তৈরি ছবি ‘দিজ ওল্ড ব্রডস’-এ অভিনয় করেন। ছবিটির কাহিনি লিখেছিলেন ক্যারি ফিশার!
২০১০ সালে রেজ মান্থলিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎ​কারে ডেবি যা বলেছিলেন, তাতে তাঁর শক্ত মন ও জীবন সম্পর্কে ধারণার সন্ধান পাওয়া যায়।
‘আমি সব সময় পাঁচ বছরের জন্য পরিকল্পনা করি। প্রতিদিনের জীবনযাপন করে যাই এবং পাঁচ বছরের জন্য আমি হতাশাকে জীবন থেকে বিদায় দিই। আমি সব সময়ই একটি দীর্ঘ সুড়ঙ্গ দেখি এবং নিশ্চিত থাকি, এই সুড়ঙ্গের শেষে অবশ্যই পাব আলোর সন্ধান। আমি সেই আলোর কাছে পৌঁছাতে পারব এবং আমার ওই পাঁচ বছরকে নিয়ে যেতে পারব আলোর সীমানায়। এভাবেই তো কয়েকটি সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে গেছি আমি। আমি এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি হারতে রাজি নই।’

১৯৩২ সালের পয়লা এপ্রিল জন্ম হয়েছিল মেরি ফ্রান্সেস রেইনল্ডের। ১৬ বছর বয়সেই ‘মিস বারব্যাংক সুন্দরী প্রতিযোগিতা’য় তাঁকে দেখে চলচ্চিত্র কোম্পানি ওয়ার্নার ব্রাদার্স তাঁর প্রতি আগ্রহী হয়। তাঁরা তাঁর নাম পরিবর্তন করে ‘ডেবি’ রাখে। ‘জুন ব্রাইড’ নামে একটি ছবিতেও তিনি তখন অভিনয় করেন।

১৯৫০ সালে তিনি মেট্রো গোল্ডউইন মেয়ার-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। সে বছরেই তাঁর প্রথম ছবি ‘দ্য ডটার অব রোজি ওগ্রাডি’ মুক্তি পায়। এরপরই ১৯৫২, এ বছরই ‘সিংগিন ইন দ্য রেইন’। ডেবি তারকা বনে যান। ডিক পাওয়েলের সঙ্গে ‘সুসান স্লেপ্ট হেয়ার’, ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার সঙ্গে ‘দ্য টেন্ডার ট্র্যাপ’, তখনো স্বামী এডি ফিশারের সঙ্গে ‘বান্ডেল অব জয়’, টনি র‍্যান্ডেলের সঙ্গে ‘ইট স্টারটেড উইথ এ কিস’ ছবিগুলোয় অভিনয় করে তাঁর নাম আরও ছড়িয়ে পড়ে। গান নিয়েও কৃতিত্ব ছিল তাঁর। ১৯৫৭ সালে ‘ট্যামি অ্যান্ড দ্য ব্যাচেলর’ ছবিতে ‘ট্যামি’ গানটি গেয়েছিলেন, যা ছিল সিঙ্গল চার্টের নাম্বার ওয়ান।
১৯৭০ সালে ‘হোয়াটস দ্য ম্যাটার উইথ হেলেন’ই বড় পর্দায় তাঁর শেষ ছবি। তিনি পরে এক সাক্ষাৎ​কারে বলেছিলেন, ‘আমি ছবি করা ছেড়ে দিইনি। ওরাই আমাকে নিয়ে আর ছবি করেনি।’

তাই বলে তিনি তাঁর সৃজনশীলতাকে বিসর্জন দেননি। বিভিন্ন ক্রুইজ আর নাইটক্লাবে তিনি তাঁর পরিবেশনা চালিয়ে যান। নিউ ইয়র্ক আর লন্ডনের মতো শহরের স্টেজগুলোও মাতিয়ে রাখেন। ১৯৭৩ সালে ‘শার্লটস ওয়েব’ ছবিতে তিনি শার্লটের কণ্ঠ দেন।

বিয়ে
এডি ফিশারের সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর তিনি ব্যবসায়ী হ্যারি কার্লকে বিয়ে করেন। কিন্তু জুয়া খেলে হ্যারির ভরাডুবি হয়। ডেবির প্রায় সব টাকাই তিনি উড়িয়ে দেন জুয়ায়। ১৯৭০ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। আর্থিক অস্বচ্ছলতার প্রভাব তার ক্যারিয়ারেও পড়ে।

১৯৮৪ সালে বিয়ে করেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী রিচার্ড হ্যামলেটকে। লাসভেগাসে একটা হোটেল ও ক্যাসিনো কেনেন তাঁরা। সেখানেও ডেবি পারফর্ম করেন। কিন্তু রিচার্ড দেউলিয়া হয়ে গেলে এই বিয়েও ভেঙে যায়।

পুরুষদের সম্পর্কে দারুণ এক কথা বলেছেন ডেবি, ‘পৃথিবীতে ভালো পুরুষ আছে, তাদের মধ্যে আছেন আমার বাবা আর ছেলে টড। কিন্তু আমি স্বামী হিসেবে সব সময়ই ইডিয়টদের বেছে নিয়েছি। পুরুষদের সম্পর্কে আমার রুচি ভালো নয়।’