দুর্গাপুরে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

ভোরের কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে পাটালি ও খুরি গুড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দুর্গাপুর (রাজশাহী) উপজেলার খেজুর রস সংগ্রহকারীরা। উপজেলার হাটবাজারগুলো এখন নতুন গুড়ের সমারোহে জমজমাট।

বিকেল হতেই গাছিরা রস সংগ্রহের জন্য খেজুর গাছের মাথার নালা পরিষ্কার ও ছাঁটাইয়ের জন্য ধারালো বাটাল, চুন ও মাটির পাতিল (কোর) নিয়ে ছুটে চলছেন গাছে গাছে। গাছের মাথা ছেঁটে মাটির কোর পেতে চলে যান অন্য গাছে। এভাবে বিকেল থেকে সন্ধ্যা গড়ে যায় গাছিদের।

আবার ভোর হতে না হতেই কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে তারা একটি বাউক ও ২টি টিন দিয়ে বানানো ভার নিয়ে ছুটে চলেন প্রতিটি গাছের গোড়ায়। প্রতিটি গাছের কোর থেকে সংগৃহীত রস ভারের টিনে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এর পর লম্বা চুলায়, একটি কড়াইয়ে জাল দিয়ে তৈরি করেন সুস্বাদু গুড়। এ কাজে বাড়ির গৃহিণীসহ ছোট শিশুরাও অংশগ্রহণ করে থাকে।

এ অঞ্চলের খেজুর গুড়ের সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। উপজেলার আলীপুর গ্রামের খেজুর রস সংগ্রহকারী গাছি আবদুল মালেক বলেন, আমার বয়স ৪৮ বছর। ১২ বছর বয়স থেকে প্রতিবছর কনকনে শীতের মধ্যে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে থাকি। সেই রস বাড়িতে নিয়ে এসে পাটালি ও খুরি গুড় তৈরি করি। পরে হাটবাজারে গিয়ে যখন বিক্রি করি তখন রস সংগ্রহের সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে আনন্দের জোয়ারে ভাসতে থাকি।

এক একটি খেজুর গাছ থেকে গড়ে প্রতিদিন ৭০০ গ্রাম করে গুড় তৈরি হয়। বর্তমানে হাটবাজারে খেজুর গুড় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে।

উপজেলার হাটবাজারগুলো জমে উঠেছে পাটালি ও গুড়ের হাট। গত বছরের চেয়ে এ বছর দাম দ্বিগুণ পাওয়ায় বেশ আনন্দিত চাষিরা। উপজেলা কয়েকটি হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সিংগাহাট সপ্তাহে দুদিন রোব ও বুধবার প্রতি হাটে গড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার কেজি, আমগাছী হাটে ৪ থেকে ৫ হাজার কেজি, কানপাড়া হাটে দেড় থেকে ২ হাজার কেজি ও আলীপুর, পালশাসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটে হাজার হাজার কেজি গুড় বিক্রি হচ্ছে। সিংগাহাটে গুড় বিক্রি করতে আসা আবু জাফর, রায়হান আলী ও মকবুল হোসেন জনান, গত বছর চিনির দাম কম থাকায় অনেক গাছি খেজুর গুড়ে চিনি মিশিয়ে গুড় তৈরি করেছিলেন। তাই গুড়ের দাম অনেক কম ছিল। এ বছর চিনির দাম বেশি হওয়ায় গুড়ে চিনি ভেজাল দিতে না পারায় মূলত গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি দামে গুড় বিক্রি করতে পাচ্ছেন তারা। ভালো দামে গুড় বিক্রি করতে পারায় তারা অনেক আনন্দিত।

বর্তমানে বাজারে ভালো মানের সুস্বাদু পাটালি গুড় বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় ও খুরি গুড় বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। ফলে এ মৌসুমে খেজুর গাছের রস সংগ্রহকারীরা খুব ভালো দাম পাওয়ায় বেশ খুশি।