বার্তাবাংলা ডেস্ক »

এস এ চৌধুরী,মৌলভীবাজার:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলায় ৩টি রেল সেতুতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।  ট্রেন চলাচল দুই ঘন্টা বন্ধ থাকার পর সিলেটের সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
জানা যায়,গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে আখাউড়া-সিলেট রেল পথের কমলগঞ্জের কুমড়াকাপন এলাকায় ধলাই রেলওয়ে সেতুর স্লিপারে দৃর্বৃত্তরা  আগুন ধরিয়ে দিলে সেতুটির মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পূর্বেই পুড়ে যায় সেতুটির ৩টি কাঠের স্লিপার। ঘটনার সংবাদ পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলার  ইউএনও প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, কমলগঞ্জ থানার ওসি নীহার রঞ্জন নাথের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলেন। ধলাই রেল সেতুতে আগুন দেয়ার প্রায়  আধা ঘন্টা পরই কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া উদ্যান এলাকার মাগুরছড়া নামক স্থানে রেলওয়ে সেতুতে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। কমলগঞ্জের ইউএনও ও কমলগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি ও বন বিভাগের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে সেতুর ৬টি স্লিপার পুড়ে যায় এবং রাত ১০ টায় কুলাউড়া উপজেলার ছকাপন রেল সেতুর কাঠের স্লিপারে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।   এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার পর থেকে সিলেটের সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। পৃথক তিন ঘটনায় এলাকাবাসী এগিয়ে এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেন। তবে গণপূর্ত (রেল)-এর কর্মীরা তিনটি রেল সেতু পরিদর্শণ করে রাত সোয়া ১২ টায় রেল চলাচল স্বাভাবিক করেন। ঘটনার সংবাদ পেয়ে রেলপথের শ্রীমঙ্গল-কুলাউড়া জোনের উপ সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমসহ রেলওয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেতু দুটি পরিদর্শন করে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২ টায় ট্রেন চলাচলের অনুমতি প্রদানের পর ট্রেনের নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে উঠে। এ ঘটনার পর কমলগঞ্জ থানা পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এ রুটের সবকটি রেল সেতুসহ রেল লাইনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
কমলগঞ্জ থানার ওসি নীহার রঞ্জন নাথ জানান, কমলগঞ্জ ইউএনও ও পুলিশের একটি দল ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত অগ্নিকান্ডস্থলে যান। এ সময় স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের ধারণা জামায়াত-শিবির চক্র পরিকল্পিতভাবে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গলস্থ গণপূর্ত (রেল) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেনু মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে না এলে বড় ধরনের ক্ষতির ক্ষতির সম্ভাবনা ছিল। আগুনে তিনটি রেল সেতুর ৬টি কাঠের স্লিপার পুড়ে গেছে। এ ঘটনাগুলোর জন্য আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »