বিদেশি টানতে ভিসা সহজ করল ভারত

অধিকসংখ্যক বিদেশি টানতে ও অর্থনীতিকে চাঙা করতে সহজ ভিসা প্রক্রিয়া অনুমোদন করেছে ভারত সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পিটিআইয়ের খবরে এ কথা জানানো হয়।

এ বিষয়ে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, এখান থেকে দীর্ঘমেয়াদে একাধিকবার প্রবেশের (মাল্টিপল এন্ট্রি) সুবিধাযুক্ত ভিসা দেওয়া হবে। পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা ও কনফারেন্স ভিসাকে একীভূত করা হবে। এ ছাড়া নতুন করে আরও আটটি দেশে ভারতীয় ই-টুরিস্ট ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের কারণে পর্যটন, ব্যবসা ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাঁরা ভারতে যাবেন, তাঁরা লাভবান হবেন। আশা করা হচ্ছে, এর ফলে দেশটির অর্থনীতির চাকা গতিশীল হবে।

নতুন পদ্ধতিতে পর্যটক, ব্যবসায়ী, চিকিৎসা নিতে যাওয়া বিদেশি, কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারী বা চলচ্চিত্রের শুটিং করতে যাওয়া ব্যক্তিরা সহজেই ভিসার সুবিধা পাবেন। সেবা খাতের বাণিজ্য বাড়াতে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে নতুন ভিসা পদ্ধতি অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে এ ধরনের ভিসা দেওয়া হবে। তবে এ ধরনের ভিসায় কোনো বিদেশি ভারতে স্থায়ীভাবে বাস করতে বা কাজ করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। এই ভিসার আওতায় কেউ টানা ৬০ দিনের বেশি থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া বায়োমেট্রিক তথ্য ও নিরাপত্তাজনিত বাধ্যবাধকতার শর্ত পূরণ করতে হবে।

যেসব দেশের জন্য নতুন ভিসা পদ্ধতির সিদ্ধান্ত হয়েছে, এর বাইরে যেসব দেশ আছে, সেসব দেশের নাগরিকদের পর্যটন ও বাণিজ্য–সুবিধা দিতে পাঁচ বছর মেয়াদি একাধিকবার প্রবেশের সুবিধাযুক্ত ভিসা দেওয়া হতে পারে।

ভিসা জটিলতার কারণে বছরে আট হাজার কোটি ডলারের মতো অর্থ ভারতের হাতছাড়া হয়ে যায় বলে বলা হয়ে থাকে। এই পরিমাণ অর্থকে দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত করতেই সরকার ভিসা পদ্ধতি সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু চিকিৎসাজনিত পর্যটন থেকে ভারতের আয় প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। ২০২০ সালের মধ্যে এটি বেড়ে ৭০০-৮০০ কোটি ডলার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।