বিজিবি মোতায়েন: চট্টগ্রাম রণক্ষেত্র, নিহত ৩ » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

bgb-bg20130228065449বার্তবাংলা রিপোর্ট :: মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর জামায়াত-শিবিরের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া ও বাঁশখালীতে ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। দিনভর সংঘর্ষে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও কমপক্ষে ৩০ জন।

এসময় জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা দেড় শতাধিক গাড়ি, দু’শতাধিক দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস ভাঙচুর করেছে। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কমপক্ষে ১৫টি গাড়ি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রায় ঘোষণার পর থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ থেমে থেমে এখনও চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত থাকার দায়ে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার জানান, লোহাগাড়ায় সংঘর্ষে তারেক নামে একজন কনস্টেবল এবং মেজবাহ উদ্দিন (২০) নামে একজন পথচারী মারা গেছেন।

স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাঈদীর রায় ঘোষণার পর অস্ত্র নিয়ে কেরানিহাট এলাকায় ভাঙচুর শুরু করে জামায়াত শিবিরের কর্মীরা। এসময় পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করতে হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর কেরানীহাট এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাড়ক ও চট্টগ্রাম বান্দরবান সড়কে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।

ঘটনার পর থেকে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইলতুৎমিশ, সহকারী পুলিশ সুপার(সাতকানিয়া সার্কেল) রুহুল আমীন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন।

শরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর সাতকানিয়া কেরানিহাট এলাকায় ভাংচুর শুরু করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। পুলিশ বাঁধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

তিনি বলেন, “পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। এরপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় বিজিবির সহায়তা চাইলে বিকেলে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।”

সাতকানিয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল জানান, মিছিলে বাধা দিতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুঁড়ে মিছিলকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

সাতকানিয়ায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা একটি ফায়ার স্টেশনেও আগুন দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, প্রায় একই সময়ে সাতকানিয়ার পাশের লোহাগাড়া উপজেলায়ও তান্ডব শুরু করে জামায়াত শিবির। লোহাগাড়ার চুনতি, ঠাকুরদিঘী, পদুয়া, বটতলী, আধুনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় দোকান ভাংচুর, গাড়িতে আগুন দেয়াসহ ব্যাপক তান্ডব চালায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। এসময় তারা বেসরকারী বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা এবং ফিলিং স্টেশনেও আগুন দেয়।

সংঘর্ষে দু’উপজেলায় এস আই ইয়াসিন আরাফাত, এএসআই ইয়ামিন সুমন, ট্রাফিক কনস্টেবল লোকমান, কনস্টেবল তারেক, দোকান কর্মচারী নূরুল আবছার, আব্দুস শুক্কুরসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে।

এদিকে পাশের উপজেলা বাঁশখালীতেও ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে জামায়াত-শিবির। উপজেলার জলদি ইউনিয়নের মহাজোন পাড়ায় জামায়াত-শিবিরের হামলায় দয়ালশীল (৬৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে চট্টগ্রামে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো তিনজন।

বাঁশখালী থানার ওসি (তদন্ত) শাহজাহান খান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাঁশখালী থানার ওসি আব্দুস সবুর জানান, রায় ঘোষণার পর জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা থানায় আগুন দেয়ার চেষ্টা করে। এরপর তারা থানার সামনে ৪-৫টি দোকান আগুনে পুড়িয়ে দেয়।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল জানান, জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়, পৌরসভা ভবন ও থানা ভবনসহ শতাধিক দোকান ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা রায় ঘোষণার পরপরই উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব শুরু করে।

ক্যাডাররা দুপুরে বৈলছড়ি ও চাম্বল থেকে দু’টি মিছিল নিয়ে প্রথমে থানা ভবন ঘেরাও করে। এসময় থানার আশপাশে অবস্থিত দোকানপাঠ ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়।

পরে ক্যাডাররা উপজেলা সদর জলদীতে অবস্থিত পৌরসভা ভবনে ভাঙচুর করে। তারা এসময় পুরো ভবনজুড়ে ব্যাপক তান্ডব চালায়। উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়েও তারা ভাংচুর চালায়। এসময় তারা উপেজলা কার্যালয় এবং পাশে আদালতে আগুন দেয়। এসময় গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র পুড়ে যায়।

রায় ঘোষণার পর পরই বৈলছড়ি এলাকায় পুলিশের গাড়িকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে দু’পুলিশ আহত হয়।

জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা উপজেলার রামদাশ হাট, বৈলছড়ি বাজার, চাম্বল বাজার, নাপোড়া বাজার, বশিরউল্লা মিয়াজি বাজার, পুঁইছড়ি বাজার, মিয়ার বাজার, পৌর এলাকায় তান্ডব চালায়।

এসময় এসব বাজারের বিভিন্ন দোকান ভাংচুর ও ‍লুটপাট করে। তারা এসব বাজারে ‍রাখা অন্তত ১৫-২০টি গাড়ী ভাংচুর করে ও আগুন দেয়। এছাড়া অন্তত ৫টি দোকান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা রায় ঘোষণার আগে থেকেই তান্ডব লীলা শুরু করে।

বৃহস্পতিবার সকালে সাঈদীর রায় ঘোষণার আগেই তারা পুইছড়ির ডাকাতিঘোনা এলাকায় অবস্থিত যুবলীগের কার্যালয় ভাঙচুর করে।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »