জলবায়ু অভিবাসী সমস্যা সমাধানে বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সফল বাস্তবায়নে জলবায়ুজনিত অভিবাসী সমস্যা সমাধানে বৈশ্বিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ হুমকির বিরুদ্ধে লড়াই করতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব সুসংহত করার লক্ষ্যে সবাইকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মরক্কোর মারাক্কেশে গতকাল মঙ্গলবার রাতে বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনের (কপ-২২) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান। মারাক্কেশে জাতিসংঘ আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই উচ্চপর্যায়ের বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন নামে পরিচিত এই সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১১৫টি দেশের ৮০ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং মন্ত্রীরা অংশ নিচ্ছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জলবায়ুজনিত অভিবাসীর চ্যালেঞ্জ যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে না পারলে আমরা কখনোই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হব না।’ তিনি বলেন, মারাক্কেশ সম্মেলন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ, গত বছর প্যারিসে জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় অর্থবহ সহযোগিতা গড়ে তুলতে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তি চলতি বছর বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। গত বছর গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো এগিয়ে নেওয়ার এটাই সময়—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্যারিস চুক্তি অর্থবহ সহযোগিতার সুদৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলেছে। তিনি বলেন, প্যারিস চুক্তিতে স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রথম সারির দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুতে অঙ্গীকার পূরণ করতে ব্যর্থ হলে কোটি কোটি মানুষ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে নিরাপদ ও সুন্দর করতে আমাদের অঙ্গীকার পূরণের লক্ষ্যে আমাদের অবশ্যই ন্যায়সংগত দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত হতে হবে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিজস্ব তহবিল থেকে ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে প্রথম ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট’ গঠন করেছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো জলবায়ু সম্পৃক্ত অধিক ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি পূর্বসতর্কীকরণ–ব্যবস্থা ও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণসহ বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের উল্লেখ করে বলেন, এসব পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্যোগকালে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি অনেক হ্রাস পেয়েছে।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ফিলিস্তিনির প্রধানমন্ত্রী রামি হামদাল্লাহ, সুইজারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বারনাবাস শিবোসিসো দামিনি, কুক আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হেনরি পুনা, ফিজির প্রধানমন্ত্রী জোসাইয়া ভি বাইনিমারামা, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উরো কেনিয়াত্তা, রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামি, মার্শাল আইসল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মিজ হিলডা হেইনে প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনে বাংলাদেশের ৫৮ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব প্রমুখ।