বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Dating App

শিবগঞ্জ উপজেলার মির্জাপুরে কর্ণখালি এহইয়াউল উলুম দাখিল মাদ্রাসা। ৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসায় কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৩০। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ জন। বাকি ৩৯০ শিক্ষার্থী কেবল কাগজে কলমে। শিক্ষক-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা ঠিক রাখতে বছরের পর বছর ধরেই এ অবস্থা চলে আসছে মাদ্রাসাটিতে।

খোদ মাদ্রাসার সুপার এ তথ্য জানিয়েছেন সাংবাদিকদের। সম্প্রতি বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় অনিয়মের ভয়াবহ চিত্র। সুপারকে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণীকক্ষ ঘুরে দেখার অনুরোধ জানানো হয়। তিনি প্রায় আধাঘন্টা পরে ক্লাসরুমে নিয়ে যান। এর ফাঁকে তিনি মাদ্রাসা সংলগ্ন কয়েকটি বাড়ি থেকে কয়েকজনকে ডেকে হাজির করেন। চারটি শ্রেণীকক্ষে ৭ জন ছাত্রছাত্রী দেখা গেলেও ছিলনা কোনো শিক্ষক। জানা গেছে, কোরআন শিক্ষা ও কৃষি শিক্ষার ক্লাশ ছিল। কিন্তু স্যার নেই। বাকি ৬ টি ক্লাশ রুম ফাঁকা ছিল। শুধু সুপার ছাড়া অন্য শিক্ষকরা সাংবাদিক আসার কথা টের পেয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। সুপারের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জোর অনুরোধ করেন।

এক পর্যায়ে তিনিই বলেন মাদ্রসার বিভিন্ন অনিয়মের কথা। মাদ্রাসা সুপার মাওলানা মো. সাদিকুল ইসলাম জানান, কাগজে কলমে প্রথম শ্রেণী থেকে ১০ শ্রেণী পর্যন্ত ৪৩০ জন শিক্ষার্থী তাদের। কিন্তু বাস্তবে আছে মাত্র ৪০ জন। প্রথম থেকে ৪র্থ শ্রেণীতে কোনো শিক্ষার্থী নাই। তবে চেষ্টা করছের নতুন বছরে ছাত্র/ছাত্রী সংগ্রহের।

ভুয়া ছাত্র-ছাত্রী দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান টেকাতে অনেক কিছু করতে হয়। অফিসের বিভিন্ন স্থানে শত শত সেট নতুন বই থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন কাগজপত্র অনুযায়ী শিক্ষা অফিস থেকে নতুন বই উত্তোলন করতে হয়। কিছু নতুন বই ছাত্র-ছাত্রী না আসায় জমা আছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রতিবছরই নতুন বইগুলো বছর শেষে কেজি হিসাবে বিক্রি করা হয়। কমিটি ও হিসাব নিকাশ সম্পর্কে সুপার সাদিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়রা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ম্যানেজ করে চলতে হয়। আর এ কারণেই কোন শিক্ষকের নিয়োগ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র অফিসে রাখতে পারিনি। কখন কাকে কমিটিতে রাখবো তা নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। বর্তমান কমিটির একটি তালিকাসহ অন্যান্য কাগজপত্র দেখতে চাইলেও তিনি দেখাতে পারেননি।

তিনি আরও জানান, গত বছর ৬০ টি আম গাছের আম বিক্রি করে মাত্র ৪০ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। ওই টাকাও সভাপতি খরচ করে দিয়েছেন। স্থানীয় দাইপুকুরিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যন মো. আতিকুল ইসলাম জুয়েল বলেন, অনেক অভিযোগ আমি পরোক্ষভাবে শুনেছি। মাদ্রাসার মতো একটি প্রতিষ্ঠান যদি অনিয়মে ভরপুর থাকে, তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাদ্রাসাটিতে কোন অফিসার পরিদর্শনে আসেননি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, আমাদের কাছে অভিযোগ না থাকায় কিছু করা হয়নি। তবে খুব শিগগিরই সরজমিনে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Dating App
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »