চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রলবোমায় ৮ যাত্রীকে হত্যা : শিগগিরই চার্জশিট

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা দেশব্যাপী লাগাতার হরতাল-অবরোধ চলাকালে জেলার চৌদ্দগ্রামে ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি গভীর রাতে কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেয়ার ঘটনায় একটি এবং একই সালের ২ ফেব্রুয়ারি যাত্রীবাহী নৈশকোচে পেট্রলবোমা হামলায় ঘুমন্ত ৮ যাত্রী হত্যার ঘটনায় দায়ের করা দুটিসহ তিনটি মামলায় আদালতে চার্জশিট প্রস্তুত করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের ডাকা লাগাতার হরতাল-অবরোধ চলাকালে গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি নৈশকোচ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় আসার পর নাশকতাকারীদের নিক্ষিপ্ত পেট্রলবোমা হামলায় নিহত হন ঘুমন্ত ৮ যাত্রী।

ওই তিন মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দলের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও জামায়াত-শিবিরের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ দুষ্কৃতিকারীরা এ মামলায় অভিযুক্ত হতে পারেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আলোচিত ওই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান হাওলাদার বাদী হয়ে পর দিন ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও চৌদ্দগ্রামের সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে প্রধান আসামি এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, দলের কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, রুহুল কবির রিজভী ও সালাহউদ্দিন আহমেদকে হুকুমের আসামি করে ওই দুটি মামলায় ১১২ জনের নাম উল্লেখসহ ১৪২ জনকে আসামি করা হয়।

ওই সময়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রামে এটি দ্বিতীয় মামলা। এ মামলায় পুলিশ ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে জাকির, মোতালেব ও আলমগীর নামে ৩ জন আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আসামিদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে শাহাবুদ্দিন নামে এক শিবির নেতা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় সোহেল নামে এক আসামি মারা গেছেন। এর আগে গত বছরের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রামে কারযানে আগুন দেয়ার ঘটনায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে থানায় প্রথম মামলাটি হয়েছিল।

এদিকে দেশব্যাপী বহুল আলোচিত এ নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর নিহতদের মধ্যে ওই সময় একজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয় এবং অপর সাতজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত না করেই তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু মামলার বিচারের প্রক্রিয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়া পরবর্তীতে জটিলতা দেখা দেয়ার আশঙ্কায় পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ কক্সবাজারের ইউসুফ ও রাশেদুল ইসলামের মরদেহ গত বছরের ২১ নভেম্বর, যশোরের নুরুজ্জামান পপলু ও তার মেয়ে মাইশার মরদেহ চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি, শরীয়তপুরের ওয়াসিমের মরদেহ চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি এবং নরসিংদীর আসমা ও শান্তর মরদেহ ১ মার্চ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহীম জানান, ঘটনার দিন ৭ নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত না করায় পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলন করতে গিয়ে মামলার তদন্তে কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছে, তবে এরই মধ্যে নিহতদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। বর্তমানে ভিসেরা রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছি। মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। নাশকতার তিনটি মামলায় আদালতে শিগগিরই চার্জশিট দাখিল করা হবে।