নতুন মায়ের খাবার-দাবার

গর্ভবতী থাকা অবস্থায় একজন মায়ের যেমন সুষম খাবার গ্রহণ জরুরি ঠিক তেমনি সন্তান জন্মদানের পরও সুষম খাবার গ্রহণ জরুরি। শিশুর বয়স ছয় মাস হওয়ার আগ পর্যন্ত সে মায়ের দুধের মাধ্যমে সবধরনের পুষ্টি গ্রহণ করে। তাই সন্তান জন্মদানের পরও মায়ের যথেষ্ট পুষ্টি গ্রহণ করা উচিত। একজন নতুন মায়ের ডায়েটে প্রচুর পুষ্টিকর খাবার থাকা উচিত। শিশু এই সময় মায়ের দুধ থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে। তবে আধোয়া শাকসবজি, অপাস্তুরিত দুধ, ফিল্টারবিহীন পানি এবং রান্নাবিহীন মাংসের ব্যাকটেরিয়া থেকে তাকে সতর্ক থাকতে হবে।

ক্যালোরির পরিমাণ বাড়ানো:

পুষ্টিবিদ ডা. শিল্পা জোসি এ সময় নতুন মায়েদের সবধরনের খাবারের প্রতি গুরুত্ব দিতে বলেছেন। তাছাড়া, চিকিৎসকের নিষেধ না থাকলে তেল এবং মশলা জাতীয় খাবারসহ সবধরনের খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শিল্পা জোসি আরও বলেন, প্রথম ছয় মাস মায়ের অতিরিক্ত শক্তির দরকার হয়। কারণ এই সময় শিশুর পুষ্টি পুরোপুরি মায়ের ওপর নির্ভর করে। তাই তাকে বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত। বাদাম, ডাল, শিম জাতীয় খাবারে প্রচুর প্রোটিন ও ক্যালোরি পাওয়া যায়। তবে কেউ যদি আমিষভোজী হন তাৎক্ষণিকভাবে শাকসবজি জাতীয় খাবার গ্রহণের দরকার নেই। তাতে করে, ভালোর চেয়ে খারাপই হবে বেশি।

লৌহ গ্রহণ:

একজন মাকে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে প্রচুর রক্ত ক্ষয় হয়। এই সময় তার শরীরে লৌহের ভারসাম্য রক্ষা করাটা জরুরি। প্রতিদিন অল্প শাকসবজি লৌহের যোগান দিতে সক্ষম।

দুধ এবং ক্যালসিয়াম:        

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, একজন মায়ের এই সময় প্রচুর ক্যালসিয়াম দরকার যাতে শিশুটি নিরবিচ্ছিন্নভাবে পুষ্টি নিতে পারে। শিল্পা জোসি বলেন, আপনি যদি ল্যাকটোজ গ্রহণ করতে না পারেন তবে দুধ বা দুধ জাতীয় খাবার না খেয়ে, দই খেতে পারেন। বাগানে উৎপাদিত শস্যের বীজ, আলিভ এবং হালিম এ প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে। মিষ্টি জাতীয় খাবার রসগোল্লা  প্রচুর শর্করা রয়েছে। আপনি যদি শর্করা ব্যাপারে খুব সতর্ক হোন তাহলে হালিম বা ক্ষীর খেতে পারেন।

পানি:    

স্তনে দুধ বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম পদ্ধতি খুব কাজে দেয় না। তারচেয়ে তরল জাতীয় খাবার খেতে পারেন। নতুন মায়েরা মলমূত্র ত্যাগের সময় ব্যথার ভয়ে বেশি পানি বা তরল জাতীয় খাবার খেতে চান না। ফলে, মায়ের দেহে কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। এ সময় বেশি করে পানি খাওয়া উচিত। স্যুপ, ডাবের পানি, ফল, ফলের জুস এবং লাচ্ছি মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তরল খাবার শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়।