১০ মাসে রেলপথে ৬৫ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ১০ মাসে বিভিন্ন ভাবে ৬৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নানা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে অসংখ্য। লাকসাম রেলওয়ে জংশন পুলিশ ফাঁড়ির অধিনে সালদানদী থেকে ফেনী জংশন ও লাকসাম রেলওয়ে জংশন-নোয়াখালীর সোনাপুর পর্যন্ত ট্রেনের ছাদ, রেললাইন ও প্লাটর্ফম থেকে এ সব লাশ উদ্ধার করা হয়।

গত শনিবার অজ্ঞাত ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে বগুড়া সেনানিবাসের ওয়ান সিগ্যনাল ব্যাটেলিয়ান সদস্য আবদুর রহমান (৩০) নিহত হন। ওইদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের নাঙ্গলকোট ষ্টেশনের অদূরে গোত্রশাল নামক স্থানে ডাবল রেললাইনের মাঝখান থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে লাকসাম রেলওয়ে থানা পুলিশ। নিহত ওই সেনা সদস্যের বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার মদনেরগাঁও গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মফিজুর রহমান বাদী হয়ে গত রোববার লাকসাম রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামীদের নাম অজ্ঞাত বলে উল্লেখ্য করা হয়।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি স্বপন কান্তি বড়ুয়া এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,ঘটনার পর পরই হত্যাকারীদের চিহিৃত করে গ্রেপ্তার করতে রেলওয়ে পুলিশ ব্যাপক অভিযান শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই দুইজনকে আটক করে পুলিশ। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছে, তারা ওই সেনা সদস্যদের সাথে থাকা মালামাল ট্রেনের ছাদে ডাকাতি করে এবং ডাকাতি শেষে ওই সেনা সদস্যকে ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করে।

পুলিশের দাবি, আটককৃত নয়ন মিয়া জনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ট্রেনের ছাদে সেনা সদস্য আবদুর রহমানরে মালামাল ডাকাতি করে হত্যার পর ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। অপর আসামি বাবুলকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রেলওয়ে পুলিশ সুত্রে জানাযায়,সেনা সদস্য হত্যার ঘটনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে পৃথক অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয় নগর থানার চম্পকনগর গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে বাবুল ও চট্টগ্রামের হাটাজারি থানার মৌলভীপাড়া ইসকান্দার বাড়ির রফিকুল ইসলামের ছেলে নয়ন মিয়া জনিকে লাকসাম রেলওয়ে থানা পুলিশ আটক করে।দুই জনকে আটকের পর গত বুধবার দুপুরে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য কুমিল্লার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে গত বুধবার কুমিল্লার পালপাড়া রেললাইন থেকে ইমরান হোসেন(২৪) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও গত ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত লাকসাম রেলওয়ে জংশন পুলিশ ফাঁড়ির অধিনে সালধানদী থেকে ফেনি জংশন ও লাকসাম-নোয়াখালির সোনাপুর পর্যন্ত ট্রেনের ছাদ,অজ্ঞাত ও প্লাটর্ফম সহ বিভিন্ন ভাবে নিহত ৬৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আর বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে অসংখ্য লোক। এসব ঘটনায় ট্রেনে ভ্রমনকারি যাত্রীরা আতংকিত হয়ে পড়েছে।
লাকসাম রেলওয়ে জংশন পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্বপন কান্তি বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।