বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ছাত্ররাজনীতিকে মনে লালন করে জাতীয় নেতার স্বপ্ন দেখেন মিনহাজ।

অন্ধকার রাত্রিতে চাঁদের আলোর প্রয়োজন হয়। পথ খুঁজে পাওয়ার জন্য, নির্ভরতা খুঁজে পাওয়ার জন্য। তেমনি মানুষের জীবনের সংকটকালীন অন্ধকার মুহূর্তেও মানুষের প্রয়োজন হয় নির্ভরতাস্বরূপ আলোর। আর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কর্মীদের কাছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কর্মীদের কাছে এবং জাবি ক্যাম্পাস ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে তেমনি এক আলোর নাম মিনহাজুল আবেদিন। তরুণ রাজনীতিবিদ মিনহাজুল আবেদিন বাংলাদেশ জাবি শাখা ছাত্রলীগের সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক।

একদিন আ. ফ.ম কামালউদ্দিন হলের  ২৫০ নম্বর কক্ষে বসে কথা বলার সুযোগ হয় মুজিব আর্দশের অকুতোভয় সৈনিক ও জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার মিশনের অক্লান্ত কর্মী, ক্যাম্পাসের জনপ্রিয় এই তরুণ ছাত্রনেতার সঙ্গে।

মিনহাজুল আবেদিনের জন্ম ১৯৯৩ সালে, বরিশাল জেলার উজিরপুর থানা। ডাক নাম মিনহাজ। তার বাবা বঙ্গবন্ধুর আর্দশের স্বপক্ষে ছিলেন। বর্তমানে তিনি সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন, মা একজন গৃহিনী এবং রাজনীতি সচেতন।

৫ ভাই বোনের মধ্যে মিনহাজ সবার বড়। জীবনে অনেক চড়াই উতরাই পিড়িয়েছেন তিনি স্বাভাবিকভাবেই বহন করেছেন অসহনীয় দুঃখের অভিজ্ঞতা। কিন্তু মিনহাজুল আবেদিন অন্য ধাতুতে গড়া মানুষ। সেই বাল্যকাল থেকেই তিনি কখনো বাধা আঁকড়ে ধরে বসে থাকেন নি, বরং বাধাকে পরিণত করেছেন সাফল্যে। তিনি জীবনে কখনো থেমে থাকেননি। অত্যন্ত মেধাবী এবং মেধার পরিচয় দিয়ে এসেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায়। শ্রম আর মেধা দিয়ে তিনি কুড়িয়েছেন অনেক সফলতা। জীবন যুদ্ধে থেমে থাকেন নি কখনই। বঙ্গবন্ধুর আর্দশকে মনে ধারণ করে একনিষ্ট কর্মী ছিলেন জাবি শাখা ছাত্রলীগের। বর্তমানে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন জাবি শাখা ছাএলীগের সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে।  জীবনযুদ্ধে, পড়াশোনার ক্ষেত্রে, আর এখন রাজনৈতিক জীবনে সব ক্ষেত্রেই তিনি এগিয়ে চলেছেন অপ্রতিরোধ্য গতিতে।

গল্প এগিয়ে যেতে থাকে মিনহাজুল আবেদিনের সঙ্গে। কথা বলতে বলতে প্রশ্ন করি ছাত্রলীগের নিষ্ঠাবান এই নেতাকে, “শৈশব-কৈশোরে এমন কি কিছু ঘটেছিল যাতে হৃদয়ে রাজনীতির প্রতি আগ্রহের বীজ রোপিত হয়েছিল?”

উত্তরে মিনহাজ বলেন, তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেছিলেন সবাই বড় হয়ে কী হতে চায়। জবাবে তিনি  মোটামুটি চিকিৎসক, প্রকোশলীর, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী মতো উত্তরই পেয়েছিল। তার মাথায় প্রশ্ন আসে কেন কেউ রাজনীতিবিদ হতে চায় না? রাজনীতি তো ভাল জিনিস। এক নেতার আর্দশে বড় হবো, দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য কাজ করবো। মুজিবের আর্দশে আর্দশিত হবো। এ ধারাবাহিকতায় ছাত্ররা যদি রাজনীতি অঙ্গনে প্রবেশ করে তবে রাজনীতি অঙ্গনের জন্য তা খুবই ইতিবাচক হবে।

সেই চিন্তাভাবনা থেকে তরুণ রাজনীতির প্রতি উৎসাহিত হয়েছেন তিনি। রাজনীতি অঙ্গনে প্রবেশের পর প্রায়শই তিনি চিন্তা করেন কিভাবে বঙ্গবন্ধুু একজন মানুষ থেকে লক্ষ্য কোটি জনতার প্রিয় হলেন। কিভাবে হয়ে গেলেন মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র। দেশের স্বাধীনতায় কিনা ভূমিকায় তিনি রাখলেন। হয়ে গেলেন ৭ কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন। স্বাধীন বাংলাদেশের জাতির পিতা, কান্ডারী। এই যে সফলতা বঙ্গবন্ধুু পেয়েছেন তা তিনি একদিনে অর্জন করেন নি। অক্লান্ত পরিশ্রম, ভাল আচারণ, সততা আর নিষ্ঠার মাধ্যমে পেয়েছেন এই সম্মানের মুকুট।

 

জানতে চাই এই নেতার কাছে, তাঁর রাজনীতি করার বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা কীভাবে দেখেন। এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তাঁর পরিবার সম্পূর্ণ আওয়ামীগপন্থী। তার বাবা বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি করেছেন। পরিবার থেকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ব্যাপারে কখনো বাঁধা আসেনি, বরং সবাই বিষয়টি নিয়ে বেশ খুশি। তবে তাঁর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পরিবারের সদস্যরা মাঝে মাঝে চিন্তিত হয়ে পড়েন বলেন জানান সম্ভাবনাময় এই রাজনীতিবিদ।

ঐতিহাসিক দল আওয়ামী লীগের ভার্তৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগকে সম্পূর্ণ সংবেদনশীল সংগঠন বলে উল্লেখক করেন মিনহাজ, যেখানে সবাই ভাই-ভাই, কোন ভেদাভেদ নেই।

“রাজনীতির মাধ্যমে দেশ ও জনগণকে কি দিতে চান আপনি?” এমন প্রশ্নের জবাবে মিনহাজ স্মরণ করেন নিজের আদর্শ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের শেষ ভাষণের কথা, এই আদর্শিক জায়গা থেকেই মিনহাজ দেশের মানুষকে অনেক কিছু দেওয়ার ইচ্ছা হৃদয়ে লালন করেন।

মিনহাজ বলেন, “ মিনহাজ রাজপথের নেতা। প্রয়োজনে রক্ত দেওয়ার মানসিকতা রাখেন। একজন নেতার জীবনে লক্ষ্য থাকে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা ও দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করা। যখন কোন নেতা নিজের দায়িত্ব পালন করে, মানুষের ভালোবাসা সে পাবেই। আমি আমার দায়িত্ব ঠিকঠাকভাবে পালন করি।”

ছাত্রলীগের এই অসামান্য সৈনিক মানুষের ভালোবাসেন, আবার শাসনও করেন। কিন্তু যা করেন তা কেবল ভালোর জন্যই। অন্যের ক্ষতি করে কেউ জীবনে কখনো ভালো থাকতে পারে না। কিছু কিছু মানুষ নেতা হয়ে গেলে অহংকারী হয়ে পড়েন, এই বিষয়টা মিনহাজ পছন্দ করেন না।

 

কারণ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এটা ছিল না। জাতির পিতা দেশের আপামর জনসাধারণের মঙ্গল চাইতেন আর মিনহাজের আদর্শও ঠিক এটাই।

 

আজীবন রাজনীতি নিয়েই থাকার ইচ্ছা এই ছাত্রনেতার। ছাত্ররাজনীতির আঙ্গিনা পেরিয়ে একসময় জাতীয় রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখেন মিনহাজ। তবে এটাও জানেন, সে জন্য সাধনা ও পরিশ্রমের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। সামনে অসীম সম্ভাবনা নিয়ে চলা এই তরুণ ছাত্রনেতার সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গন্ডিতে আটকে থাকবে না। তা দেশ ও দশের মঙ্গলের ইতিহাস রচনা করবে।

 

 

 

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »