সাভারে ফোনের চার্জার বিস্ফারণে দম্পতি দগ্ধ

ঢাকার আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় এক দম্পতি দগ্ধ হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মুঠোফোনের চার্জার বিস্ফোরিত হয়ে তাঁরা দগ্ধ হন বলে জানা গেছে।

দগ্ধ ওই দম্পতি হলেন জাফর আলী (৪৫) ও দুলালি বেগম (৩৮)। জাফর আলীর বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রুয়েরপাড় বটতলা গ্রামে। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি আশুলিয়ার পলাশবাড়ি এলাকায় ‘চৈতি ভিলা’ নামে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। জাফর আলী পোশাক কারখানায় নিরাপত্তা কর্মীর চাকরি করেন। তাঁর স্ত্রী পোশাক শ্রমিক।

চৈতি ভিলার মালিক চাঁন মিয়ার ভাতিজা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘শুক্রবার রাতে মুঠোফোন চার্জ দিয়ে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েন। আজ শনিবার ভোর পাঁচটার দিকে তাঁর মুঠো ফোনে কল এলে জাফর আলী চার্জ দেওয়া অবস্থায় ফোন ধরে কথা বলার চেষ্টা করেন। এ সময় চার্জার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন জাফর ও তাঁর স্ত্রী দুলালির শরীরের কাপড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দুলালি দরজা খুলে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে সাভার গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সকাল ১০টার দিকে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, আগুনে জাফর আলীর মুখ, হাত-পা, বুক ও পেট পুড়ে গেছে। আর তাঁর স্ত্রী দুলালির হাত-পা ও মুখ দগ্ধ হলেও জাফরের তুলনায় কম।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, আগুনে জাফর আলীর শরীরের অন্তত ৭০ ভাগ আর তাঁর স্ত্রীর শরীরের বিভিন্ন অংশের অন্তত ২৫ ভাগ পুড়ে গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জাফরের সঙ্গে থাকা তাঁর মামাতো ভাই আদম আলী বলেন, জাফরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁকে জানিয়েছেন। তবে তাঁর স্ত্রীর অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল।