মাদারীপুরে পুকুর ভরাট বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

মাদারীপুর শহরের পুলিশ ফাঁড়ি পুকুরটি ভরাট বন্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সদর থানার ওসি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুকুর ভরাট কার্যক্রমের ওপর দুই মাসের স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। ভরাটকারীদের প্রতি এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ সোমবার রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশ দেন।

মাদারীপুর পৌরসভা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শহরের পুরান বাজারের লঞ্চঘাট এলাকায় থাকা এই পুকুরটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো। ২ একর ৩ শতাংশের এই পুকুরের মালিক জেলা প্রশাসন।

‘জেলা প্রশাসনের পুকুর ভরাট করছে যুবলীগ-ছাত্রলীগ’ শিরোনামে ৬ অক্টোবর প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য নির্দেশনা চেয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ গতকাল রোববার রিট আবেদনটি করে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রুলে পুলিশ ফাঁড়ির পাশের পুকুর ভরাট বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পুকুরটির ভরাট করা অংশ ভরাটকারীদের নিজ খরচে অপসারণের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এলজিইডির সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (পরিচালক এনফোর্সমেন্ট), মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ ১২ বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

পরে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তিনজন ওই পুকুর ভরাট করছেন বলে প্রতিবেদনে এসেছে। এই কার্যক্রমের ওপর দুই মাসের স্থিতাবস্থা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ এই তিনজনকে পালন করতে হবে।

৪ অক্টোবর সকাল থেকে খননযন্ত্রের একটি পাইপ দিয়ে মাদারীপুর শহরের পুলিশ ফাঁড়ি পুকুরটি বালু ফেলে ভরাট করা শুরু হয়। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা অবৈধভাবে পুকুরটি ভরাট করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই পুকুরের মালিক জেলা প্রশাসন।