বার্তাবাংলা ডেস্ক »

MOBARPK-sm20130224234810বার্তাবাংলা ডেস্ক ::মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামিনে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছেন প্রসিকিউশন।আগামী ১১ মার্চ এ অভিযোগ আমলে নেওয়ার বিষয়ে  শুনানির দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে জামায়াতের রোকন এবং বর্তমানে বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা মোবারকের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, আটক ও নির্যাতনের পাঁচ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোমবার ৩৩ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সাহিদুর রহমান। ১১ মার্চ অভিযোগ আমলে নেওয়ার বিষয়ে  শুনানির দিন ধার্য করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ২ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।

একই সঙ্গে মোবারকের জামিনের মেয়াদ ওই দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ২৪ জানুয়ারি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, অপহরণসহ পাঁচ ধরনের অভিযোগে মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। ৬ মাস ৭ দিন তদন্ত শেষে মোট ৪ ভলিউমে ২৯৪ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনটি তৈরি করে জমা দেওয়া হয়।

এর পর প্রথমে ১২ ফেব্রুয়ারি ও পরে প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার মোবারকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

তদন্ত সংস্থা জানায়, মোবারকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে হত্যা, গণহত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১২ সালের ১৬ জুলাই থেকে ২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত তদন্ত সংস্থার তদন্ত কর্মকর্তা শ্যামল চৌধুরী তদন্ত শেষ করেন।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে জানা গেছে, মোবারকের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, আখাউড়া থানার টানমান্দাইল ও জাঙ্গাইল গ্রামে ৩৩ জনকে গণহত্যা, আনন্দময়ী কালীবাড়ী রাজাকার ক্যাম্পে আশু রঞ্জন দেবকে নির্যাতন, ছাতিয়ানা গ্রামের আব্দুল খালেককে হত্যা, শ্যামপুর গ্রামের দু’জনকে অপহরণ করে একজনকে হত্যা এবং খরমপুর গ্রামের একজনকে আটক রেখে নির্যাতন। এসব অপরাধ ১৯৭১ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোবারকের বিরুদ্ধে ২১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

মোবারক হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার নয়াদিল গ্রামের সাদত আলীর ছেলে। তিনি স্বাধীনতার পর জামায়াতের ইউনিয়নের রোকন ছিলেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হলেও দু’বছর আগে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে সংঘটিত একটি হত্যার অভিযোগে মোবারকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ব্রাক্ষণবাড়িয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ওই মামলায় আটক হন মোবারক হোসেন।

মোবারকের বিরুদ্ধে ওই মামলায় অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরের দিন গ্রামবাসী আব্দুল খালেকের লাশ পাশ্ববর্তী খাল থেকে উদ্ধার করেন। আরজিতে উল্লেখ করা হয়, যারা খালেককে ডেকে নেন তাদের মধ্যে আখাউড়া উপজেলার নয়াদিল গ্রামের মোবারক এবং জমশেদ মিয়া ছিলেন।

শহীদ আব্দুল খালেকের কন্যা খোদেজা বেগম ২০০৯ সালের ৩ মে ব্রাক্ষণবাড়িয়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। মোবারক হোসেন ওই বছরের ১৩ মে ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের আগাম জামিন নেন। এরপর কয়েক দফা জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে আরেক দফা জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে হাইকোর্ট তাকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন।

পরে ২০১১ সালের ৯ অক্টোবর মোবারক হোসেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান এবং মামলার নথিপত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেন।

পরে গত বছরের ৬ জুন আসামিপক্ষের আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে আপিল মোকদ্দমা করলে ট্রাইব্যুনাল এ মামলার নথিপত্র তলব করেন।

ট্রাইব্যুনালে মামলাটি আসার পর আটক মোবারক হোসেনের জামিন আবেদনের প্রথম শুনানি হয় গত বছরের ১১ জুলাই। ওই দিন আসামিপক্ষ ও প্রসিকিউশন বিষয়টির ওপর শুনানি শেষে ১৬ জুলাই তাকে জামিন দেন ট্রাইব্যুনাল। এর পর ১৬ সেপ্টেম্বর জামিনের মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় দুই মাস, ১৫ নভেম্বর তৃতীয় দফায় আরও দুই মাস বৃদ্ধি করেন ট্রাইব্যুনাল। ১২ ফেব্রুয়ারি ৪র্থ দফায় ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এবং সোমবার ৫ম দফায় ১১ মার্চ পর্যন্ত জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »