নাটোরে পদ্মার চরাঞ্চলসহ ১৩ গ্রাম প্লাবিত

ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দেওয়ার কারণে নাটোরের লালপুরে পদ্মার চরাঞ্চলসহ অন্তত ১৩ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আরও নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। এছাড়া জেলার সিংড়া উপজেলার গুর নদীতে বিপদ সীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

কোথাও বিপদ সীমা ছুঁই-ছুঁই আবার কোথাও বিপদ সীমার নিচে অবস্থান করছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বন্যা কবলিত গ্রামগুলো হলো- লালপুর, বিলমাড়ীয়া, নওসারা সুলতানপুর, চরজাজিরা, চর বন্দবস্ত গোবিন্দপুর, চাকলার চর, দিয়াড় বাহাদুরপুর, রামকৃষ্ণপুর,পালপাড়া, বাকনা, মমিনপুর, বিলমাড়িয়া ও চানপুর।

স্থানীয়দের দাবি, বন্যার পানিতে এসব গ্রামসহ পদ্মার চরাঞ্চলের কয়েক হাজার বিঘা জমির আখ, ধৈঞ্চা, শীতকালীন সবজি, কচু, হলুদ, পেয়ারা, কুলবরই, চালকুমড়া ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আতঙ্কে রাত কাটছে এসব গ্রামের মানুষে।

তবে, এ সংক্রান্ত ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব কৃষি বিভাগ ও সুগারমিলের কাছে নেই। গত দুই দিনেও কৃষি বিভাগ আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত ও ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব নির্ণয় করতে পারেনি। এই এলাকায় ক্ষতি হওয়ার মতো কোনো ফসল মাঠে নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আলহাজ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, এলাকার মাঠে কি কি ফসল আছে আর নেই, তা খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। আপাতত তার দপ্তরে ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব নেই।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চরাঞ্চলের কোনো কোনো জমির ফসলের চিহ্ন পর্যন্ত নেই। বন্যার পানিতে আখ, ধৈঞ্চা, শীতকালীন সবজি, কচু, হলুদ, পেয়ারা, কুলবরই, চালকুমড়া ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত হচ্ছে জনপদও। চরাঞ্চল ছাড়াও নদী তীরবর্তী লালপুর, বিলমাড়ীয়া, দুড়দুড়িয়া ও ঈশ্বরদী ইউনিয়নের দুই/একটি ক্যানেল দিয়ে পদ্মার পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

পদ্মা চরের বাসিন্দারা জানান, গত ১৫/২০ বছরেও নদীতে এমন পানি বাড়েনি। পদ্মা নদীতে যে হারে পানি বাড়ছে তাতে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সুলতানপুর গ্রামের আরিফ হোসেন জানান, তার তিন বিঘা জমির পেয়ারা ও ৫ বিঘা জমির কুলবরই বাগান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। খাঁনপুর গ্রামের আমির আলীর ৬ বিঘা জমির পেয়ারা বাগান পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে তিনি জানান। অনেকের সবজি ক্ষেত, আখ ক্ষেত সহ ফসলি জমি এখন পানির নিচে।
দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান জানান, তার এলাকার চন্ডিপুর ক্যানেল দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। পানি বাড়তে থাকলে আরো অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়ে যাবে।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, লালপুর ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ ফসলি এলাকা ডুবে গেছে। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষ সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন।

তবে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলের পানি পরিমাপ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কে.এম.জহুরুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, পাকশী হাডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি প্রবাহের বিপদ সীমা ১৪.২৫। আজ (২৮ আগস্ট) রোববার সকাল ৬টায় ছিল ১৪.২৫ মিটার ও রাজশাহীতে ১৮.৫০ মিটার অবস্থান করছে।

শনিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ৬টায় ছিল ১৪.০৪ মিটার এবং দুপুরে ছিল ১৪.১৪ মিটার। পানি বৃদ্ধির হার এরকম থাকলে হয়তো আগামী পরশু নাগাদ বিপদ সীমা অতিক্রম করতে পারে।

তিনি আরও জানান, নাটোরের সিংড়া উপজেলার গুও নদীতে বিপদ সীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত করছে। এই নদীতে পানির স্তর যেখানে ১১.৩৫ মিটার, সেখানে পানির স্তও ১১.৫০ মিটার অবস্থান করছে।