মানিকগঞ্জে সংঘর্ষে নিহত ৪ » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Manikgonj-sm20130224014757বার্তাবাংলা ডেস্ক ::মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে হরতালকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও গ্রামবাসীর সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন।

ইসলামী সমমনা ১২ দলের ডাকে রোববার হরতালের সময় এই সংঘর্ষে সিঙ্গাইর থানার ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আলী হোসেন মিয়া বলেন, সকাল ১১টার দিকে উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যুর খবর সকালে নিশ্চিত করেন তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পর দুপুরে মারা যান আরো একজন।

আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ কয়েকজনকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গুলি ছোড়ার বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। আহতদের স্বজনদের দাবি, পুলিশের পাশাপাশি ছাত্র ও যুবলীগকর্মীরা গুলি চালিয়েছে।

এসপি বলেছেন, আহতদের মধ্যে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন।

নিহতরা হলেন- আলমগীর (৩৫), নাজিম উদ্দীন (২৫) ও শাহ আলম ও নাসির উদ্দিন।

আলমগীর ও আলম ঘটনাস্থলে এবং নাজিম হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান। তারা গুলিতে নিহত হন বলে স্থানীয়রা জানায়।

সিঙ্গাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক খলিলুর রহমান বলেন, তিনজনের লাশ তাদের হাসপাতালে রয়েছে।

গুলিবিদ্ধ নাসিরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে দুপুরে তিনি মারা যান।

নাসিরকে নিজেদের কর্মী দাবি করেছে খেলাফত মজলিস। দলের যুগ্মমহাসচিব মোহাম্মদ শফিক উদ্দিন এক বিবৃতিতে এই দাবি জানিয়ে গুলি চালানোর প্রতিবাদও জানান।

তবে নাসিরের ভাগ্নে ঢাকা মেডিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, গোবিন্দল বাজারে নাসিরের দোকান ছিল।

স্থানীয়রা জানায়, সকাল ৭টার দিকে হরতাল সমর্থকরা গোবিন্দল এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচলে বাধা দেয়। তখন বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়।

উভয়পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে স্থানীয়দের একটি দল পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয়।

বেলা ১১টার দিকে হরতাল সমর্থকরা পুলিশকে ধাওয়া দিলে পুলিশ রবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।

পুলিশ সুপার বলেন, হরতালকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালালে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘প্রয়োজনীয়’ পদক্ষেপ নেন।

তিনজনের মৃত্যুর কারণ পুলিশের গুলি কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না। আমি সেখানে (সিঙ্গাইর) যাচ্ছি।”

ওই সংঘর্ষে আহত নয়জনকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের সবাই গুলিবিদ্ধ।

এরা হলেন- রুবেল (২৫), হেলেনা (১৮), লিঙ্কন (১৫), আলমাস (৩২), নোয়াব আলী (১৪), মানিক (৩৫), আলী আকবর (১৮), দুলাল (২৬) ও সিদ্দীক (৩৫)।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহামুদুল হাসান বলেন, “গুলিবিদ্ধ নয়জনেরই এখন অপারেশন চলছে। গুলি বের করে একে একে তাদেরকে আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) নেয়া হবে।”

দুপায়ে গুলিবিদ্ধ রুবেলের মামা হাফেজ মো. জাকারিয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, সকালে গোবিন্দল মাদ্রাসার কিছু ছাত্র মিছিল বের করলে পুলিশ প্রথমে তাদের বাধা দেয়।

“মিছিলকারীরা পিছু না হটলে পুলিশ মৃদৃ লাঠিচার্জ করলে ছাত্ররা আশপাশের ফসলি ক্ষেতের মধ্য দিয়ে পালিয়ে যায়।”

এরপরই ছাত্রলীগ ও যুবলীগকর্মীরা গুলি চালায় বলে দাবি করেন জাকারিয়া।

“স্থানীয় হওয়ায় তাদের (ছাত্রলীগের নেতা কর্মী) প্রায় সবাইকেই আমি চিনি।”

গুলিবিদ্ধ মানিকের ছোটভাই সাব্বির হোসেন শুভও একই কথা বলেন।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »