ঢাকা ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ অমান্য » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Dhaka-Bank20130223223126বার্তাবাংলা ডেস্ক ::ভয়াবহ দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতার চরম পর্যায়ে থাকা ঢাকা ব্যাংকের বার্ষিক মুনাফা কমে গেছে। হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না রফতানি আয়ের প্রায় আট কোটি টাকার। বহু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ভঙ্গ করে চলছে ব্যাংকটি। সর্বশেষ ঋণ প্রভিশনিং করার যে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেটিও পরিপালন করতে পারছে না আর্থিক সংকটের কারণে।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে ক্রেডিট রেটিং করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার ফজলে রশিদকে কয়েকবার টেলিফোন করেও পাওয়া যায়নি।

সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ঋণ প্রদানে অনিয়ম করার বেশ কয়েকটি প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য সর্তকও করা হয়েছে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে। আর এসব ক্ষেত্রে নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন রাশেদুর রহমান।

কমেছে পরিচালনা মুনাফা: অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার কারণে ব্যাংকটির পরিচালনা মুনাফা কমে গেছে ব্যাপক হারে। ২০১১ সালে ব্যাংকটি পরিচালনা মুনাফা করে ৪৩২ কোটি টাকা। কিন্তু ২০১২ সালে মুনাফা কমে যায়। এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০০ কোটি টাকা। ব্যাংক সূত্র বলছে, মূলত ব্যবস্থাপনা দক্ষতার অভাবই এর কারণ।

অনিয়ম করে ক্রেডিট রেটিং: নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করার জন্য বেআইনিভাবে ক্রেডিট রেটিং করেছে ঢাকা ব্যাংক। ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (ক্রিসল) নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণের (এসএমই) রেটিং করেছে।

আয়ের হদিস নেই: ঢাকা ব্যাংকের রফতানি আয়ের আট কোটি টাকার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, রফতানি করার ১২০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ দেশে আনতে হবে। তা করতে না পারলে ব্যবস্থা নিতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রভিশনিং ঘাটতি: সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত নতুন প্রভিশনিং বিধি মানছে না ঢাকা ব্যাংক। নতুন বিধি মোতাবেক প্রভিশনিং করতে পারেনি ব্যাংকটি। এতে ব্যাংকের ঘাটতি হয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। আর ঘাটতির ব্যাপারটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে জানতে চাওয়া হয়েছে। তাদের দেওয়া উত্তর গ্রহণযোগ্য না হলে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বার্ষিক প্রতিবেদনে মিথ্যা তথ্য: বার্ষিক প্রতিবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার নজির স্থাপন করেছে ঢাকা ব্যাংক। ২০১১ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয় ব্যাংকটি। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে আসার পর অনুসন্ধানে এর সত্যতা পাওয়া যায়। সেবছরের প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণ কম দেখানো হয়। এরপর ২০১২ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদনেও মিথ্যা তথ্য দিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে। সেটি প্রমাণের জন্য প্রতিবেদন তদন্ত করে দেখতে অভ্যন্তরীণ পরিদর্শন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঋণ প্রদানে অনিয়ম: ঢাকা ব্যাংকের বিপুলপরিমাণ ঋণ অনিয়ম করে দেওয়ার তথ্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জানা গেছে, ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিজেদের মধ্যে এসব ঋণ যাচ্ছে। ফলে সার্বিকভাবে এর ঝুঁকি বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে এর খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাবে। গ্রাহকের আমানত নিয়েও তৈরি হবে ঝুঁকি।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »