আফগানিস্তানে জাতীয় শোক

আফগানিস্তানে আজ রোববার জাতীয় শোক দিবস পালন করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার দেশটির রাজধানী কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৮০ জন নিহত ও ২৩০ জন আহত হয়েছে। আইএস এই হামলার দায়স্বীকার করেছে।

বিবিসির খবরে জানা যায়, টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলেছেন, হামলাকারীদের কঠোর হস্তে দমন করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘ দল এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে চিহ্নিত করেছে। জাতিসংঘের সাহায্যকারী দলের প্রধান তাদামিচি ইয়ামামোতো বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

গতকাল শনিবার সংখ্যালঘু শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ের একটি বিক্ষোভ সমাবেশে আত্মঘাতী হামলায় কমপক্ষে ৮০ জন নিহত হয়। আহত হয় ২৩০ জন। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) হামলাটি চালিয়েছে বলে দাবি করে। আইএসের আমাক ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, তাদের দুজন সদস্য সমাবেশে ঢুকে হামলাটি চালিয়েছে। আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর পক্ষ থেকে এই হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে।

হাজারা গোষ্ঠীর লোকেরা একটি বিদ্যুৎ লাইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছিল। তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে যাবে এমন একটি বিদ্যুৎ লাইন আফগানিস্তানের শিয়া হাজারা অধ্যুষিত বামিয়ান প্রদেশের ওপর দিয়ে নেওয়ার কথা। ২০১৩ সালে তৎকালীন আফগান সরকারের আমলে এই বিদ্যুৎ লাইন বামিয়ান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ লাইনের নকশা আবার বামিয়ানে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে গতকাল কাবুলের দেহ্ মাজাং চত্বরে শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশে জড়ো হয়। বিকেলে হঠাৎ করেই সেখানে একাধিক আত্মঘাতী বিস্ফোরণ হয়।

আফগানিস্তানে সব মিলিয়ে ৩০ লাখ হাজারা শিয়ার বাস। ৯০ এর দশকে আল কায়েদা এবং পশতুন সুন্নিদের হামলায় বহু হাজারা নিহত হয়। হাজারা সম্প্রদায় মনে করে, দেশটিতে প্রায় সব সরকারই তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করে এসেছে। গতকালের বিক্ষোভ মিছিলেও সেই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে। গতকাল হামলার আগে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে হামলার পর সেখানে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।