মিলানের কাছে হেরে গেল বার্সা » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

09বার্তাবাংলা ডেস্ক :চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলর প্রথম লেগে বুধবার এসি মিলানের কাছে ২-০ গোলের হারে বার্সেলোনার ‘ট্রেবল’ জয়ের স্বপ্ন বড় একটা হোঁচট খেয়েছে। ১২ মার্চ ন্যু ক্যাম্পে দ্বিতীয় লেগ।

ঘানার কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেং ও সুলি মুন্তারির দ্বিতীয়ার্ধের দুই গোল বার্সার কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার পথ অনেক কঠিন করে তুলেছে। সান সিরোয় অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিলেন টানা চারবারের বিশ্ব সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি।

মিলানের প্রথম গোলটি বিতর্কিত। ৫৭ মিনিটে বোয়েটাংয়ের তীব্র গতির শট জালে জড়ানোর আগে ক্রিস্টিয়ান জাপাতার হাতে লেগে এসেছিল।

দ্বিতীয় গোল নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই গোলটির স্থপতি স্টেফান এল শারাউই। ৮০ মিনিটের মাথায় তার নিখুঁত পাস খোঁজে পায় মুন্তারিকে। মুন্তারির ভলি ফেরানোর কোনো সুযোগই পান নি ভিক্টর ভালদেজ।

স্প্যানিশ লা লিগার শীর্ষ ও কোপা দেল রের সেমিফাইনালিস্ট বার্সা পুরো মৌসুমে এই নিয়ে সবে দুবার গোল করতে ব্যর্থ হল। প্রথমার্ধে খেলার নিয়ন্ত্রন ছিল স্প্যানিশ দলটির হাতেই। কিন্তু চারজন করে ডিফেন্ডারে গড়া মিলানের দুই স্তরের রক্ষণভাগ ভাঙ্গা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় নি।

কাতালান দলটির দশ খেলোয়াড়ই ছিলেন যুব অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা এবং নয় জন ছিলেন স্পেনের বিশ্বকাপ ও ইউরো জয়ী দলের সদস্য।

বার্সার শুরুটা ছিল অসাধারণ। তীব্র গতি ও অসাধারণ বোঝাপড়া আর নিখুঁত পাসে কাঁপিয়ে দিয়েছিল স্বাগতিকদের। অন্য দিকে ‘অফ সিজন’ এ শীর্ষ খেলোয়াড়দের ছেড়ে দেয়া মিলান শুরুতে ছিল নিজেদের ছায়া হয়ে। বল দেয়া-নেয়াও ঠিকভাবে করতে পারে নি তারা। মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বল হারিয়ে প্রতিআক্রমণে যাওয়ার সুযোগও হারিয়েছে।

বার্সার ভারপ্রাপ্ত কোচ জর্ডি রৌরা ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “খেলা আমাদের নিয়ন্ত্রনেই ছিল। কিন্তু আমরা বা ওরা কেউই খুব বেশি পরিস্কার সুযোগ তৈরি করতে পারি নি।”

“তাদের হারানোর ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম আমরা। ওদের প্রথম গোলটি বিচ্ছিন্ন আক্রমণ থেকে এসেছে। এটা আমাদের জন্য খুব বাজে ফলাফল। নিজেদের মাঠে ভক্তদের সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় লেগে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আমি আশাবাদী,” যোগ করেন তিনি।

মিলান কোচ মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি মনে করেন জয় তার শিষ্যদের প্রাপ্যই ছিল। স্বাভাব সুলভ ভঙ্গিতেই বলেছেন, “ছেলেরা ভালো খেলেছে, জয় ওদের প্রাপ্য ছিল। রক্ষণভাগে কোনো ভুল করেনি।”

“প্রথমার্ধে আমরা কিছু ভুল করেছিলাম কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আমরা অনেক উন্নতি করেছি। লড়াই এখন অনেক উন্মুক্ত,” যোগ করেন তিনি।

সর্বশেষ সাত লড়াইয়ে বার্সার বিপক্ষে জয় অধরা থাকা মিলান শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারত। পাঁচ মিনিটের মাথায় ৩০ মিটার দূর থেকে মুন্তারির ভলি ক্রসবারের উপর দিয়ে গেলে হতাশ হতে হয় স্বাগতিকদের।

সুযোগ এসেছিল এল শারউইয়ের সামনেও। সুবিধাজনক জায়গায় বোয়াটেংয়ের পাস পেয়েও নিয়ন্ত্রনে নিতে তিনি ব্যর্থ হলে পেছন থেকে এসে বল কেড়ে নেন কার্লোস পুয়োল।

২০১০ সালের বিশ্বকাপে ঘানার হয়ে খেলা বোয়াটেংয়ের কর্নার অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রস্ট হলেও ভীতি ছড়ায় অতিথি শিবিরে।

বিকর্কিত গোল হজম করা বার্সা পেনাল্টি পেতে পারত। দানি আলভেজের ক্রস ফিলিপ ম্যাক্সেসের হাতে লাগলেও তা রেফারির নজর এড়িয়ে যায়।

বার্সা তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। রক্ষণভাগে কঠোর পাহারায় ছিলেন মেসি। এর মধ্যেও কয়েকবার পায়ে বল পেয়েছিলেন কিন্তু তাকে হতাশ করেছেন মিলান ডিফেন্ডাররা।

দ্বিতীয়ার্ধে রিকার্ডো মন্তেলিভোর ফ্রিকিক জর্ডি আলবার গায়ে লেগে আসে জাপাতার কাছে। তার হাতে লেগে বল যায় বোয়াটেংয়ের হাতে। তিনি লক্ষ্য ভেদ করতে ভুল করেন নি। বার্সা তীব্র প্রতিবাদ জানালেও তাতে কর্ণপাত করেন নি রেফারি।

সমতা ফেরানোর দুটি সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিল বার্সা। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার জোরালো শট ও মেসির ফ্রিকিক অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রস্ট হলে আর খেলায় ফিরতে পারেনি অতিথিরা।

উল্টো ৭৫ হাজার দর্শককে উৎসবের উপলক্ষ্য এনে দেয় মুন্তারির দ্বিতীয় গোলটি।

রৌরা বলেন, “আমরা নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারি নি। সচরাচর আমরা যেমন সুযোগ তৈরি করি তাও পারি নি। আর রেফারি নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে বলেও আমি মনে করি না।”

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »