বার্তাবাংলা ডেস্ক »

গোড়ালির ব্যথায় মাঝেমধ্যেই কাবু হয়ে পড়ছেন। সকালের দিকে ব্যথাটা বাড়ছে। ডাক্তার,বদ্যি দেখিয়েও রোগ সারছে না। অনেক কারণেই গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে। তবে কয়েকটা নিয়ম মেনে চললেই কিন্তু গোড়ালির ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

মানুষের পায়ে ২৬টি হাড়ের মধ্যে গোড়ালির হাড় সবচেয়ে বড়। যা শরীরের ওজন ধরে রাখতে সাহায্য করে। হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় পায়ের ওপর যে চাপ পড়ে সেই চাপের বেশিরভাগটাই বহন করে গোড়ালির হাড়। বিশেষজ্ঞদের দাবি, হাঁটার সময় পায়ের ওপর শরীরের ওজনের ১.২৫ গুণ চাপ পড়ে। দৌড়ানোর সময় চাপ পড়ে ২.৭৫ গুণ। যার ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গোড়ালি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও ব্যথা হয়।

গোড়ালি ব্যথার কারণ-

১. প্লান্টার ফেসিয়াটিস লিগামেন্ট গোড়ালির হাড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই লিগামেন্টে খুব বেশি চাপ পড়লে গোড়ালির সঙ্গে যুক্ত টিস্যুগুলি উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে, যার ফলে ব্যথা হয়।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনেকক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর বা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ব্যথা বেশি অনুভব হয়
২.পায়ের পাতা ফ্ল্যাট হলে গোড়ালিতে ব্যথার সম্ভাবনা বাড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টিনএজারদের এই সমস্যা হয়। এই বয়সে গোড়ালির হাড় পূর্ণতা পায় না। খুব দ্রুত ক্ষয় হয়।
৩.গোড়ালির হাড় সম্পূর্ণ গঠন হওয়ার আগে বেশি হিল জুতো পরলেও ব্যথা হয়। দীর্ঘদিন ধরে খুব শক্ত জুতো ব্যবহারের ফলে গোড়ালিতে চাপ পড়ে। এতে গোড়ালির পেছন দিক থেকে অথবা গোড়ালির ভেতর থেকে ব্যথা অনুভব হয়। পরে ক্রমশই বাড়তে থাকে।
৪.পায়ের পেছনের দিকে নার্ভে চাপ পড়লেও গোড়ালি ব্যথা হয়
৫.খুব বেশি এক্সারসাইজ, খেলাধুলো এবং হাঁটাচলা করে কাজ করলে গোড়ালির হাড়ে খুব চাপ পড়ে, যা থেকে হাড়ে চিড় ধরে। মূলত যারা দৌড়ায় তাদের এই সমস্যা থেকে গোড়ালিতে ব্যথা হয়।
৬.বিভিন্ন অসুখ থেকে হতে পারে হিল পেনের সমস্যা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৭-১৫ বছরের মধ্যে বাচ্চাদের গোড়ালিতে ব্যথা হয়। অস্টিওস্পোরোসিস থাকলেও গোড়ালিতে ব্যথা হয়
৭.রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে, বোন সিস্ট থাকলে হিল পেন হয়।
কখন ডাক্তার দেখাবেন-
১. গোড়ালি ফুলে গেলে
২. জ্বরের সঙ্গে গোড়ালিতে ব্যথা ও অসাড় হলে
৩. হাঁটার সমস্যা হলে, পা ভাঁজ করতে অসুবিধা, টো দিয়ে দাঁড়াতে সমস্যা হলে
৪. একসপ্তাহের বেশি গোড়ালিতে ব্যথা থাকলে,হাঁটা কিম্বা দাঁড়ানো অবস্থা ছাড়াও ব্যথা করলে দেরি না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন

গোড়ালিতে ব্যথা,কী করবেন-
১. হিল পেনের সমস্যা থেকে বাঁচতে নরম জুতো ব্যবহার করুন। শক্ত জুতো বা উঁচু-নিচু জায়গায় বেশি হাঁটা চলবে না
২. মাসল পেন থাকলে অবশ্যই ওজন নিয়ন্ত্রণ করা উচিত
৩. ভিটামিনের অভাব থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত
৪. ভিটামিন C ও ভিটামিন E বেশি করে খেতে হবে
৫. বেশি করে সবুজ শাক-সবজি ফল খাওয়া উচিত
৬. ব্যথা এড়াতে কর্ড লিভার অয়েল উপকারি
৭. সামুদ্রিক মাছ খেতে হবে
৮. বেশি করে জল খেতে হবে
৯. তেল ঝাল জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া চলবে না
১০. ডাবের জল ও ফল বেশি করে খেতে হবে
তবে, ব্যথা বেশিদিন স্থায়ী হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »