কলকাতার সংবাদপত্রজুড়ে হামলার খবর

গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় নিরীহ মানুষ হতাহত হওয়ার ঘটনা কলকাতার প্রায় সব সংবাদপত্রে যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে।

কলকাতার বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি সংবাদপত্রে হামলার খবর ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। অনেক সংবাদপত্রে আট কলামজুড়ে প্রধান শিরোনাম করা হয়েছে। সঙ্গে ঘটনার নানা খবর ও ছবি আছে।

বেশ কয়েকটি সংবাদপত্র এই ঘটনা নিয়ে ভেতরে বিশেষ পাতা বের করেছে। সংবাদের মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে সন্ত্রাসীদের ঐক্যবদ্ধভাবে নির্মূলের আহ্বান উঠে এসেছে। সন্ত্রাস দমনের সংগ্রামে শামিল হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদে বলা হয়েছে, ঐক্যবদ্ধ না হলে সন্ত্রাসীরা আরও বহু মানুষের প্রাণ গ্রাস করবে। এই অঞ্চলে সন্ত্রাস বন্ধ করতে বাংলাদেশ ও ভারতকেই বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তুলে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসীদের সমুচিত জবাব দিতে হবে। কারণ, সন্ত্রাসীদের কোনো জাত নেই, ধর্ম নেই। আছে শুধু একটি ধর্ম, তা মানুষ হত্যার ধর্ম।

কলকাতার প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা আজ রোববার তাদের প্রথম পাতার প্রধান খবর হিসেবে গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা তুলে ধরেছে। পত্রিকাটি সাত কলামে শিরোনাম করেছে ‘রক্তে মুক্ত গুলশন’। পাশেই প্রথম কলামে আরেকটি খবর ‘জেএমবি চালাচ্ছে কারা, ভাবাচ্ছে দিল্লিকে’। ৫-৭ পাতায় তারা বিশেষ ক্রোড়পত্রও বেরও করেছে।

বাংলা দৈনিক এই সময় তাদের প্রথম পাতায় সাত কলামজুড়ে শিরোনাম করেছে, ‘আতংকের ধোঁয়ায় ঢাকা, ১২ ঘণ্টার অপারেশনে খতম ৬ জঙ্গি, নিহত ২২ ’। এরপর ২, ৩, ৪ ও ৫ পাতায় ‘রক্তাক্ত ঢাকা’ শিরোনামে বিশেষ ক্রোড়পত্র বের করেছে পত্রিকাটি। ক্রোড়পত্রজুড়ে রয়েছে নানান খবর ও নিবন্ধ।

কলকাতার আরেকটি বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক বর্তমান হামলার ঘটনা নিয়ে প্রথম পাতায় আট কলামজুড়ে শিরোনাম করেছে। তাদের শিরোনাম ‘ঢাকায় জঙ্গি হানায় ভারতীয়সহ হত ২২, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন, সেনাবাহিনীর পাল্টা অভিযানে নিকেশ ৬ সন্ত্রাসবাদী’। পত্রিকাটির প্রথম কলামে আরেকটি খবর ‘দুই ঘাতক পালিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দিকে, জানাল বাংলাদেশ’। ভেতরের পাতায় আরও কয়েকটি খবর আছে।

বাংলা দৈনিক আজকাল ৫ কলামে শিরোনাম করেছে ‘ঢাকায় নৃশংস রাত’। প্রথম পাতায় ছাপা হয়েছে সমরেশ মজুমদারের লেখা ‘৩ বার ওই রেস্তোরাঁয় গেছি’। এ ছাড়া ‘রক্তাক্ত বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি বিশেষ ক্রোড়পত্র বের করেছে পত্রিকাটি।

কলকাতার বাংলা দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন এই ঘটনা নিয়ে প্রথম পাতায় আট কলামজুড়ে খবরের শিরোনাম করেছে। প্রথম ও ভেতরের পাতায় আরও কয়েকটি খবর ছেপেছে তারা।

এ ছাড়া কলকাতার প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য টেলিগ্রাফও প্রথম পাতাজুড়ে খবর ছেপেছে। ভেতরের কয়েক পাতাজুড়ে আরও খবর ও ছবি আছে।