‘প্রজন্ম চত্বরের দাবির সঙ্গে সরকারের সায় নেই’ » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

rajakarবার্তাবাংলা ডেস্ক ::শাহবাগ স্কয়ারের প্রজন্ম চত্বরে আন্দোলনরত তরুণদের দাবির সঙ্গে একমত নয় সরকার। আন্দোলনরত তরুণদের পেশকৃত ৬ দফার অন্যতম দাবি ছিল জামায়াত-শিবিরসহ ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। কিন্তু তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তরুণ প্রজন্মের অন্যতম এ দাবির সঙ্গে কার্যত দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, কোন ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ করার কোন পরিকল্পনা নেই। প্রয়োজনও নেই। আমরা কেবলমাত্র উগ্রবাদী জামায়াতে ইসলামের তৎপরতার কারণে তাদের নিষিদ্ধ করা যায় কিনা তা পরীক্ষা করে দেখছি। একই দিন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদও জামায়াত নিষিদ্ধ হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টে ২০০৯ সালে থাকা রিট নিষ্পত্তির পরে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে। অথচ আন্দোলনরত তরুণরা স্পিকারের মাধ্যমে দেয়া ৬ দফা দাবির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ একমত পোষণ করেছিলেন। গত ৫ই ফেব্রুয়ারি শাহবাগ স্কয়ারে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন শুরু হওয়ার ষষ্ঠ দিনে ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্ক স্পিকারের কাছে ৬ দফা দাবিনামা পেশ করে। পেশকৃত দাবিনামার দফা ৩-এ স্পষ্ট দাবি ছিল জামায়াত-শিবিরসহ ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন,  জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হবে কিনা সে বিষয়ে সরকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। দেশের আলেম-ওলামাদের সঙ্গেও এব্যাপারে আলোচনা চলছে। গতকাল দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিচারপতিদের পে-কমিশনের বিষয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে একথা বলেন। এর আগে তরুণদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তরুণ প্রজন্ম স্পিকারের কাছে যে স্মারকলিপি দিয়েছে সেখানে থাকা সকল দাবির সঙ্গে জাতীয় সংসদের প্রতিটি সংসদ একমত। শাহবাগে জেগে ওঠা তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকে একে একে সকলেই স্বাগত জানিয়েছেন। ডজন ডজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সরকারের সচিবরাও এ আন্দোলনে শরিক হয়েছেন। তথ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে প্রজন্ম চত্বরের তরুণদের উত্থাপিত দাবি বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখ্য, কাদের মোল্লাকে দেয়া যাবজ্জীবন রায়ের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত গড়ে ওঠা তরুণদের এই আন্দোলনের শুরু ৫ই ফেব্রুয়ারি। আন্দোলনরত তরুণরা দাবি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই টানা পনের দিন রাজপথে অবস্থান করছে। হয়েছে মহাসমাবেশ। তিন মিনিটের নীরবতায় স্তব্ধ ছিল সারা দেশ। হয়েছে মোমের আলোয় প্রতিবাদ। প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে দেশ ও দেশের বাইরেও। জাগরণী সমাবেশে ঘোষণা এসেছিল বিকাল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলার। কিন্তু সেই পরিস্থিতিও বদলে যায় ব্লগার রাজীব হায়দার খুন হওয়ায়। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এসেছে। কালো পতাকা ও কালোব্যাজ ধারণ করে শোক জানানো হয়েছে। জাতীয় সংগীত আর জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এই আন্দোলনে উত্থাপিত দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। নতুন কর্মসূচির ঘোষণায় আছে ২১শে ফেব্রুয়ারি মহাসমাবেশ। আজ একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বেলুনে চিঠি লিখে দাবি জানানো হবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের। আন্দোলন থেকে একাধিকবার দাবি উঠেছে যুদ্ধাপরাধে যুক্ত রাজনৈতিক দল ও ধর্মের ভিত্তিতে পরিচালিত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করার।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »