কাওয়ালি শিল্পী সাবরি হত্যায় পাকিস্তানে শোকের ছায়া

পাকিস্তানের প্রখ্যাত কাওয়ালি শিল্পী আমজাদ সাবরিকে হত্যার ঘটনায় গোটা পাকিস্তান জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বুধবার বিকেলে করাচিতে প্রকাশ্য দিবালোকে দুই বন্দুকধারীর হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এই সুফি গায়ক। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

হত্যার কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এই জনপ্রিয় সুফি গায়ককে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। টিটিপির মুখপাত্র কারি সাইফুল্লাহ মেহসুদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমজাদ সাবরি ধর্মের অবমাননা করেছেন।

এদিকে আমজাদ সাবরির হত্যাকাণ্ডে পাকিস্তানের শিল্পী মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এছাড়া অনেক রাজনীতিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দেশের ‘সাংস্কৃতিক দূত’ হিসেবে পরিচিত এ শিল্পীকে হত্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বাবার মুত্যর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েছে সাবরির ছেলে মুজাদ্দিদ সাবরি
নিহত সাবরির এক স্ত্রী, তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। বড় ছেলের বয়স মাত্র ১২ বছর।

এই হত্যাকাণ্ডের পর সিন্ধু সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান ফাকরেহ আলম দাবি করেছেন, সাবরি নিজের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার সে আবেদনে সাড়া দেননি। তবে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এ ধরনের কোনো আবেদন তারা পাননি।

এ সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা মুসতাক মেহারের বরাত দিয়ে ডন পত্রিকা জানিয়েছে, বুধবার দুই মোটর সাইকেল আরোহী আমজাদ সাবরির গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করলে তিনি নিহত হন। তিনি একে ‘টার্গেট কিলিং’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তার কোনো সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি ওই কর্মকর্তা।

বুধবার বিকেলে ৪৫ বছরের সাবরি করাচির কোরাঙ্গি এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে গাড়িতে করে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের স্টুডিওতে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি লিয়াকতবাদ এলাকায় পৌঁছলে একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই অস্ত্রধারী গাড়ির দুই পাশ থেকে পরপর পাঁচটি গুলি ছোড়ে। এতে গুরুতর আহত হন সাবরি। তাকে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় আব্বাসি শাহিদ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসাপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় সালেম সাবরি নামে শিল্পীর এক আত্মীয় গুরুতর আহত হন।

প্রসঙ্গত, ভক্তিমূলক সুফিগানের জন্য অল্প বয়সেই খ্যাতি অর্জন করেছিলেন আমজাদ সাবরি। শুধু পাকিস্তান নয় উপমহাদেশের অন্যান্য দেশেও তার জনপ্রিয়তা ছিল। তবে কট্টরপন্থিরা তার গান পছন্দ করতেন না। এর আগে ২০১৪ সালের মে মাসে টেলিভিশনে প্রচারিত আমজাদ সাবরির একটি গান ও নাচ নিয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শিল্পী এবং ওই টেলিভিশন কর্তৃপক্ষকে সমন জারি করেছিলেন আদালত।

পাকিস্তানের কাওয়ালি সংগীতের খ্যাতিমান গায়ক গোলাম ফরিদ সাবরির ছেলে আমজাদ সাবরি। গোলাম ফরিদ সাবরি ও তাঁর ভাই মকবুল আহমেদ সাবরিই ৭০ এর দশকে আদি সুফি কাওয়ালি দল ‘সাবরি ব্রাদার্স’ গড়ে তোলেন।