বার্তাবাংলা ডেস্ক »

BG-ctg-strike20130217220251 copyবার্তাবাংলা ডেস্ক ::জামায়াত ইসলামীর ডাকা হরতালে তেমন সাড়া মেলেনি চট্টগ্রামবাসীর। বন্দরনগরীতে যানবাহন চলাচল প্রায় স্বাভাবিক আছে। স্কুল-কলেজসহ অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা আছে।

দোকানপাটসহ বিভিন্ন ছোটখাট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভোরে বন্ধ থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে সেগুলো খুলে যাচ্ছে। এর ফলে মানুষের জীবনযাত্রাও আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

এদিকে হরতালে পিকেটিংয়ের চেষ্টাকালে নগরীর কোতয়ালী থানার সিরাজউদ্দৌলা রোড থেকে সরকারী হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ শিবিরের সভাপতি নাসির উদ্দিনসহ দু`জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এদিকে হরতাল ডাকলেও আগের মত জোরালোভাবে মাঠে নামেনি জামায়াত-শিবির। হরতালের সমর্থনে তারা হাতেগোণা কয়েকটি জায়গায় ঝটিকা মিছিল করেছে।

অন্যদিকে হরতাল প্রতিহত করতে মাঠে সক্রিয় আছেন গণজাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সোমবার সকাল ১০টা থেকে নগরীর প্রেসক্লাব চত্বরে গণজাগরণ মঞ্চে হরতাল প্রতিহত করতে গণ অবস্থান কর্মসূচী চলছে। মিছিলে, শ্লোগানে মুখর হয়ে আছে জামালখানসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা।

মানবতা বিরোধী অপাধের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল বাতিল, সম্প্রতি কক্সবাজারে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত তিনজনকে শিবির কর্মী দাবি করে ওই ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াত ইসলামী এ হরতালের ডাক দিয়েছে।

হরতাল শুরুর পর নগরী কিংবা জেলার কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সকালে নগরীর ডিসি হিল এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের করে পটকা ফাটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে শিবির। এছাড়া মুরাদপুর, সিরাজউদ্দৌলা রোড এবং সিইপিজেড এলাকায় তারা টায়ার জ্বালিয়ে আতংক সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাক আহমেদ জানান, সিরাজউদ্দৌলা রোডে টায়ার জ্বালিয়ে আতংক সৃষ্টির সময় শিবির নেতা নাসির উদ্দিন ও রশিদকে আটক করা হয়েছে।

সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নগরীতে রিক্সা, অটোরিক্সা, হিউম্যান হলারসহ বিভিন্ন গণপরিবহন চলছে। কিছু কিছু এলাকায় গণপরিবহনের সংখ্যা কম থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় যানবাহন চলাচলে হরতালের কোন প্রভাবই চোখে পড়েনি।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) আরেফিন জুয়েল বলেন, `গণপরিবহনের সঙ্গে ট্রাকও চলাচল করছে। পিকেটাররা চোরাগোপ্তাভাবে মিছিল কিংবা টায়ার জ্বালানোর চেষ্টা করলেও ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের কোন খবর পাওয়া যায়নি।`

নগরীতে যানবাহন চললেও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ আছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। নগরীতে দূরপাল্লার যানবাহনের কাউন্টারগুলোও বন্ধ দেখা গেছে।

হরতালে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাশ চলতে দেখা গেছে। নগরীর সেন্টপ্লাসিড উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, প্লে গ্রুপ থেকে দশম শ্রেণী প্রত্যেক ক্লাশে পাঠদান চলছে। তবে উপস্থিত কিছুটা কম বলে জানিয়েছেন ওই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মন্ত্রজয় ত্রিপুরা।

তিনি বলেন, `আগে কোনদিন হরতালে আমরা স্কুল খোলা রাখিনি। কিন্তু এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে আদেশ দিয়েছে, আমরা সেটা মেনে ক্লাশ নিচ্ছি।`

ওই স্কুলের দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র অয়ন মজুমদার বলেন, `আমি সদরঘাট থেকে রিক্সায় করে এসেছি। হরতাল হলেও আমাদের শিক্ষকরা আমাদের ক্লাশ নিচ্ছেন, এটা আমাদের ভাল লাগছে।`

নগরীর সেন্ট স্কলাস্টিকা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়েও ক্লাশ চলতে দেখা গেছে। ওই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষিকা বৃজেট ডায়াস বলেন, `আমরা জনগণের পক্ষে। জনগণ হরতাল প্রত্যাখানের যে আহ্বান জানিয়েছে, তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আমরা স্কুল খোলা রেখেছি।`

নগরীর জুবিলী রোডে মেমন গ্রামার স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে প্রত্যেক শ্রেণীতে পাঠদান চলছে। স্কুলের অধ্যক্ষ সৈয়দা সেলিমা আক্তার বলেন, `আগের হরতালে স্কুল বন্ধ রাখতে হত। এখন পরিস্থিতি বুঝে স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।`

মেমন গ্রামার স্কুলের শিক্ষিকা রনি দাশ বলেন, `স্কুল খোলা থাকায় আমরা টিচাররা সবাই উপস্থিত আছি। কিছুটা কম হলেও শিক্ষার্থীরাও সবাই উপস্থিত আছে।`

এদিকে হরতালের আগে রোববার রাতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল ফাটিয়ে, টায়ার জ্বালিয়ে ব্যাপক আতংক সৃষ্টি করে সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচী পালনের জন্য সমালোচিত এ দলটি।

হরতালে সহিংসতা মোকাবেলায় নগরীতে ব্যাপকভাবে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাক আহমেদ।

তিনি জানান, নগরীর অর্ধশতাধিক পয়েণ্টে কমপক্ষে দেড় হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন আছে।

এদিকে হরতাল হলেও নগরীর প্রায় সব বেসরকারী কলকারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান খোলা আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরাও কাজে যোগ দিয়েছেন। সিইপিজেডের সব কারখানাও যথারীতি খোলা আছে। নগরীতে সব সরকারী অফিস-আদালত খোলা আছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের বিভিন্ন জেটি এবং বহির্নোঙ্গরে জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামা স্বাভাবিক আছে। পণ্য নিয়ে মাঝে মাঝে কিছু পরিবহনও বন্দর থেকে বের হতে দেখা গেছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »