হামলাকারী মতিন সমকামী ক্লাবে নিয়মিত যেতেন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সমকামীদের নাইট ক্লাবে হামলাকারী ওমর মতিন অরল্যান্ডোর ওই ক্লাবে নিয়মিত যেতেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আফগান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ওমর মতিনকে (২৯) প্রায়ই দেখা যেত ক্লাবে এক কোনায় বসে মদ খাচ্ছেন। কখনো মাতাল হয়ে চিৎকার করতেন, বাগ্‌বিতণ্ডায়ও জড়িয়ে পড়তেন।

হামলার আগের দিন হামলাকারী ওমর মতিন শান্ত ছিলেন। তাঁর মধ্যে কোনো রাগ বা উন্মাদনা দেখা যায়নি। ওমর মতিনের বাবা সিদ্দিক মতিন এমনটাই বলছেন। আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

গত শনিবার গভীর রাতে সমকামীদের নাইট ক্লাবে গুলি করে ৪৯ জনকে হত্যা করেন আফগান বংশোদ্ভূত ওমর। পরে পুলিশি অভিযানের সময় হামলাকারীও গুলিতে নিহত হন।

ওই ক্লাবে নিয়মিত যাতায়াত করা টি স্মিথ বলেন, তিনি কমপক্ষে ১২ বার মতিনকে ক্লাবে দেখেছেন। কখনো তাঁকে চুপচাপ বসে মদ খেতে দেখা যেত। কখনো দেখা যেত মাতাল হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করছেন। স্মিথ বলেন, কখনো তাঁর সঙ্গে সেভাবে কথা হতো না। কিন্তু আমি মনে করতে পারি, তিনি তাঁর বাবাকে নিয়ে প্রায়ই কথা বলতেন। তিনি বলেছিলেন, তাঁর স্ত্রী ও সন্তান আছে।

পালসে নিয়মিত যেতেন—এমন আরেকজন কেভিন ওয়েস্ট বলেন, সমকামীদের একটি চ্যাট অ্যাপ থেকে প্রায় এক বছর ধরে তাঁকে বার্তা পাঠাতেন মতিন।

আরেকজন বলেন, মতিন সমকামীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতে গ্রিন্ডরসহ তাদের বিভিন্ন চ্যাট অ্যাপ ব্যবহার করতেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়াল্ট ডিজনির এক ব্যবস্থাপক জানান, এপ্রিল মাসে মতিন ডিজনিতে এসেছিলেন।

মতিনের স্ত্রী নূর জাহি সালমান কর্তৃপক্ষকে কোনো সহযোগিতা করছেন না বলে অভিযোগ করেছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা।

এদিকে এফবিআই-প্রধান জেমস কমি বলেছেন, তাঁর সংস্থা ‘খুবই নিশ্চিত’ যে মতিন ইন্টারনেটে উগ্রবাদীদের বিভিন্ন অপপ্রচারে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘উগ্রবাদী’ হয়েছিলেন। বলা হচ্ছে, হামলার সময় মতিন একাধিকবার ফোনে আইএস নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির প্রতি তাঁর আনুগত্য প্রকাশ করেন।

গত শনিবার মধ্যরাতে ওমর মতিনের বন্দুক হামলায় ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫৩ জন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা।