আমেরিকায় বিদ্বেষের কোনো স্থান হবে না : বারাক ওবামা

অরল্যান্ডো শহরে সমকামীদের নৈশক্লাবে ঢুকে গুলি চালিয়ে ৫০ জনকে হত্যার ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বর্ণনা করেছেন ‘বিদ্বেষপ্রসূত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “যদিও তদন্ত এখনও চলছে, আমরা জোর দিয়েই বলতে পারি, এটি একটি সন্ত্রাসী কাজ, বিদ্বেষপ্রসূত কাজ।

“আর আমরা, আমেরিকানরা; শোকে, ক্ষোভে এবং আমাদের জনগণকে রক্ষায় আমরা ঐক্যবদ্ধ।”

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ওমর মতিন নামে ২৯ বছর বয়সী এক যুবক রোববার রাতে পালস নামের ওই ক্লাবে ঢুকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার আগে আফগান বংশোদ্ভূত এই মুসলিম আমেরিকানের অ্যাসল্ট রাইফেলের গুলিতে নিহত হন ৫০ জন; আহত হন আরও ৫৩ জন।
বিবিসি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস অরল্যান্ডোর ঘটনার দায় স্বীকার করলেও তাদের যোগাযোগ এখনও স্পষ্ট নয়।

আইএস এর বার্তা সংস্থা আমাক এক বার্তায় দাবি করেছে, তাদেরই এক যোদ্ধা ওই হামলা চালিয়েছে। আর মতিন হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশকে ফোন করে আইএসের প্রতি আনুগত্যের কথা বলেছেন বলে এনবিসি নিউজের খবরে জানানো হয়েছে।

পালস ক্লাবে নিহতদের স্মরণে যুক্তরাষ্ট্রে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ওবামা মঙ্গলবার সব রাষ্ট্রীয় দপ্তরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, এতেগুলো নিরীহ মানুষের মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল যে, যুক্তরাষ্ট্রে একটি প্রাণঘাতি অস্ত্র সংগ্রহ করে মানুষের দিকে গুলি চালানো কতোটা সহজ।

“আমরা এরকম একটি দেশ চাই কি না – সে সিদ্ধান্ত আমাদের নিতে হবে।… আর কিছু না করে বসে থাকাও একটি সিদ্ধান্ত বটে।”বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কঠোর অস্ত্র আইনের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দিয়ে আসা ওবামা তার বিবৃতিতে সমকামীদেরও সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, একজন আমেরিকানের ওপর আঘাত মানে পুরো জাতির ওপর আঘাত।
আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওবামার দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এই ঘটনা আমাদের আবারও বলল, যুদ্ধের জন্য যে অস্ত্র, তার স্থান আমাদের রাস্তায় হবে না।”

সমকামীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমাদের মুক্তভাবে, নির্ভয়ে বেঁচে থাকার অধিকারের জন্য আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। আমেরিকায় বিদ্বেষের কোনো স্থান হবে না।”

অন্যদিকে হিলারির রিপাবলিকান প্রতিপক্ষ ডোনাল্ড ট্রাম্প অরল্যান্ডোর ঘটনাকে ‘ইসলামি জঙ্গিদের কাজ’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রেসিডেন্ট ওবামার পদত্যাগ দাবি করেছেন।

তিনি বলেছেন, “আমরা যদি কঠোর, স্মার্ট, আর করিৎকর্মা না হই, তাহলে এই দেশ আর বেশিদিন আমাদের থাকবে না।”

কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস এর প্রধান নিহাদ আওয়াদ মানুষের আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে রাজনীতি না করতে রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সেই সঙ্গে তিনি আইএসকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “তোমরা আমাদের প্রতিনিধিত্ব কর না; তোমরা আমাদের মত নও।” বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া মতিনের নাম আমেরিকান পুলিশের জঙ্গি নজরদারির তালিকায় ছিল না। অবশ্য সহকর্মীদের প্রতি উসকানিমূলক বক্তব্যের জন্য ২০১৩-১৪ সালে এফবিআই দুই দফা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
গত কয়েক দিনে বৈধভাবেই কিছু অস্ত্র কেনেন মতিন। গত নয় বছর ধরে বেসরকারি নিরাপত্তা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান জিফোরএস এর হয়ে কাজ করার কারণেও সঙ্গে অস্ত্র রাখতেন।

তার সাবেক স্ত্রী সিতোরা ইউসুফি ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, মতিন মানসিকভাবে ছিলেন অস্থির ও বদমেজাজি। অল্প কয়েক দিনের সংসারে প্রায়ই মতিনের মারধরের শিকার হতে হয়েছে তাকে।

রোববারের ঘটনার পর অরল্যান্ডে সিটি ও অরেঞ্জ কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।