বার্তাবাংলা ডেস্ক »

18_Shahbag+Protest_170213বার্তাবাংলা ডেস্ক ::রাজীবের মৃত্যুশোককে শক্তিতে পরিণত করে শাহবাগের প্রজন্ম চত্তরে উত্তাল রয়েছে তারুণ্য। বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে তাদের প্রতিবাদী শ্লোগান।

গণজাগরণের ত্রয়োদশ দিনে রোববার সকাল থেকে ঠাণ্ডা বাতাস ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি চলছিল। বিকেল বৃষ্টির তোড় আরও বাড়ে। এর মধ্যেই হাজার হাজার কণ্ঠে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে মূহুর্মূহু স্লোগান উঠছে। আর স্লোগানে গলা মেলাচ্ছে স্কুল কলেজের শত শত শিক্ষার্থী।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ১০টায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে আন্দোলনে সংহতি জানানো হয়। জামায়াতের ডাকা সোমবারের হরতাল প্রত্যাখ্যান করে রাজপথে থাকার প্রতিজ্ঞা করা হয়। হরতালে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে সর্বস্তরের মানুষকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানানো হয়।

গণজাগরণ মঞ্চের প্রথম শহীদ ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সোমবার সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি, অফিস, আদালত ও কলকারখানায় কালো পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

সকালে শাহবাগেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সমবেতরা একযোগে গেয়ে ওঠেন- আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালবাসি।

এখান থেকে সোমবারের হরতালবিরোধী স্লোগান দেয়া হচ্ছে। “শাহবাগ মানে না/ জামায়াত শিবিরের হরতাল/ সোমবারের হরতাল/ শাহবাগ মানে না।”

এছাড়া রাজীবের খুনিদের বিচার চেয়েও স্লোগান দেয়া হচ্ছে।

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্লগার নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার রোববার বলেন, শহীদ রাজীবের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সোমবার সকাল থেকে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি, অফিস আদালত ও কলকারখানায় কালো পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি দেয়া হয়েছে।

সেইসঙ্গে হরতাল বয়কট করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা জামায়াত-শিবিরের এ হরতাল মানি না। তাই আগামী কাল সব স্কুল-কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সব কিছু সচল রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানাই।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার পর ওই রায় প্রত্যাখ্যান করে শাহবাগ মোড়ে এই আন্দোলন শুরু করে ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্ক। ধীরে ধীরে তা রূপান্তরিত হয় জনতার আন্দোলনে।

এরই মধ্যে শুক্রবার রাতে মিরপুরে নিজের বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় শাহবাগ আন্দোলনের কর্মী স্থপতি রাজীবকে, যিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে এবং জামায়াত-শিবিরের স্বরূপ উন্মোচনে অনলাইনে লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন।

জামায়াতই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে রাজীবের বন্ধু ও স্বজনরা দাবি করেছেন।

রোববারও প্রতিদিনের মতো সকাল থেকেই প্রজন্ম চত্বরে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

ভিকারুন্নিসা নুন স্কুল ও কলেজ, ঢাকা পাবলিক কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ, প্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষার্থীদের প্রজন্ম চত্বরে এনে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।

একাত্মতা প্রকাশ করা হয়েছে নিউইয়র্ক উদীচীর পক্ষ থেকেও।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »