মনে পড়ে মহানায়ক মান্নাকে » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

42946_e1বার্তাবাংলা ডেস্ক ::দেশীয় চলচ্চিত্রের যে কোন সঙ্কটকালে যার নাম সবার আগে মনে পড়ে তিনি মহানায়ক মান্না। সবাই একবাক্যে বলেন, আজ মান্না থাকলে চলচ্চিত্রের এই দুরবস্থা হতো না। মান্না নেই এটা ধ্রুব সত্য। চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ফিরবেন না কোনদিনই। আজ মান্নার চলে যাবার পঞ্চম বার্ষিকী। ২০০৮ সালের এইদিনে (১৭ই ফেব্রুয়ারি) বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো করে চলে যান মান্না। মান্নার মতো আপাদমস্তক চলচ্চিত্রে নিবেদিতপ্রাণ মানুষের অভাব আজও পূরণ হয়নি। ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা চলচ্চিত্র শিল্পের সবাই মান্নার অভাবটা ঠিকই অনুভব করেন কিন্তু তাকে মনে রাখার মতো কিছুই করেন না। এবারও কেউ কিছু করছেন বলে জানা যায়নি। মান্না ফাউন্ডেশনও এ বছর নীরব। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মান্না যে সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সেই শিল্পী সমিতিও নীরব। তবে মানবজমিন-এর এই প্রতিবেদন চোখে পড়ার পর গত বছরের মতো এ বছরও হঠাৎ করেই এফডিসি’র মসজিদে মিলাদ পড়ানো হবে হয়তো। অবশ্য চিত্রনায়ক জায়েদ খান নিজ উদ্যোগে এফডিসির মসজিদে তার অগ্রজ নায়ক মান্নার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছেন বলে জানিয়েছেন। আজ জায়েদ অভিনীত নতুন ছবি রাজু চৌধুরী পরিচালিত ‘তোকে ভালবাসতেই হবে’ ছবির মহরত। মান্নার জন্য দোয়া করে শুটিং শুরুর সিদ্ধান্ত তার। পালন করবেন এক মিনিট নীরবতা। মান্না ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা চাষী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আজ সকাল ১১টায় বাংলাভিশনে মান্নাকে নিয়ে সরাসরি একটি অনুষ্ঠান হবে। সেখানে অতিথি হিসেবে থাকছেন শেলী মান্না। আর মান্নার উত্তরার বাসভবন কৃতাঞ্জলীতে বাদ আসর মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় মান্না যেখানে ঘুমিয়ে আছেন সেখানেও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।  মান্নাকে নিয়ে বড়সড় আয়োজনের উদ্যোগ না থাকলেও মান্না বেঁচে আছেন তার অগণিত ভক্ত এবং চলচ্চিত্রের দুঃসময়ের মাঝে। মান্নার সুসময়ের কথাগুলো এখন অতীত। তার চারপাশের মানুষরাও নীরব। তবে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সকাল থেকেই মান্না অভিনীত সিনেমা প্রচার করবে এতে কোন সন্দেহ নেই। অবশ্য ঈদ থেকে শুরু করে যে কোন উৎসবে টেলিভিশনের পর্দা এখনও মান্নার দখলেই বেশি থাকে। সপ্তাহের ৭ দিনের মধ্যে অন্তত তিনদিন তো মান্না কোন না কোন ছোটপর্দাতেই থাকেন। তাকে রাখতেই হয়। কারণ, দীর্ঘ অভিনয় জীবনে মান্না সাধারণ মানুষের পক্ষে কাজ করেছেন। পর্দায় উপস্থিত হয়েছেন প্রতিবাদী চরিত্রে। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ নিয়ে কথা বলেছেন। সফল হয়েছেন। মানুষের অন্তরে বাসা বেঁধেছেন। সেখান থেকে তাকে বের করা সম্ভব নয়। আজ মান্না সশরীরে নেই। কিন্তু বেঁচে আছেন তার কাজে-কর্মে, প্রতিবাদী চরিত্রে। বেঁচে থাকবেন ততদিন, যতদিন চলচ্চিত্র থাকবে। কারণ একজন মান্না একদিনে তৈরি হননি। ধীরে ধীরে কষ্ট, ত্যাগ আর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে খাঁটি করেছেন। জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছেন। যে কোন নতুন নায়কের জন্য মান্না হচ্ছেন আদর্শ। আজ চলচ্চিত্রে টিকে থাকার জন্য মান্নাকে আদর্শ পথপ্রদর্শক মানতেই হবে। মান্নার অকাল এবং আকস্মিক মৃত্যুর পর যে সব নায়করা সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করেছেন, একা রাজত্ব করার স্বপ্ন দেখেছেন, তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। নিজেরা ডুবেছেন, চলচ্চিত্রকেও ডুবিয়েছেন। এক মান্নার অনুপস্থিতিতেই চলচ্চিত্রের বেহাল অবস্থা। কেউ বলতে পারেন না এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে কিনা। মান্নার মৃত্যুকে চিকিৎসকদের অবহেলা অভিযোগ করে মান্নার স্ত্রী মামলাও করেছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ৬ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। সেই মামলাও চাপা পড়ে গেছে। এ বিষয়েও নতুন কোন তথ্য নেই। নেই কোন অগ্রগতির খবর। তারপরও মান্না বেঁচে আছেন, থাকবেন। চলচ্চিত্রের সব দুঃসময়ে মহানায়ক মান্নার কথা মনে করতেই হবে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আরেকজন মান্না আর কোনদিনই আসবে না। মান্না যেখানেই আছেন, ভাল থাকবেন, সুখে থাকবেন পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে এটাই সবার কামনা।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »