বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা পড়েছে।

কমিটির প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় কমিটির অন্য সদস্য বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গকুল চাঁদ দাস উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদন পাওয়ার পর অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি এখনো প্রতিবেদনটি পড়েননি। ২ জুন পর্যন্ত ব্যস্ত থাকবেন তিনি। তবে ১৫-২০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে। এটা তাঁর প্রতিজ্ঞা।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, কীভাবে এই ঘটনা (রিজার্ভের অর্থ চুরি) ঘটল এবং আমরা কী করতে পারি—দুটি বিষয়ই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কমিটির প্রধান ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘আজ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিলাম। নির্ধারিত ৭৫তম দিনেই জমা দিলাম। বাংলাদেশ ব্যাংককে ধন্যবাদ। তারা অনেক সহযোগিতা করেছে বলেই সময়মতো প্রতিবেদন জমা দিতে পেরেছি।’
ফরাসউদ্দিন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন থেকে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ৯০ শতাংশ পরিবর্তন এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন, ‘আমরা দেখেছি, কারা দায়ী, বাইরের কারা জড়িত, দেশের কারা জড়িত। কতটা অর্থ আদায় করা সম্ভব, তারও একটা চিত্র প্রতিবেদনে দিয়েছি। বলা যায়, আশাব্যঞ্জক চিত্র।

ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনে যা কিছু এসেছে, তা নিয়ে এই সময়ে কথা বলা ঠিক হবে না।’

অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনের সঙ্গে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বড় ধরনের পার্থক্যের কারণ জানতে চাইলে ফরাসউদ্দিন বলেন, আগের প্রতিবেদন করার ক্ষেত্রে অনেক তাড়াহুড়া ছিল।

কমিটির প্রধান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়ে সুইফটেরও দায়-দায়িত্ব আছে। তারা দায় এড়াতে পারে না। ভবিষ্যতে এই বিষয়ক সমস্যার সমাধান তাদের নিয়েও করতে হবে।

রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনা তদন্তে ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে গত ১৫ মার্চ তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন এবং ৭৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

কমিটির কর্মপরিধির মধ্যে ছিল—বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে এই অর্থ কীভাবে ও কার বরাবর গেল, অবৈধ পরিশোধ ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক কী পদক্ষেপ নিয়েছে, বিষয়টি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন রাখার যৌক্তিকতা কী, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, অর্থ উদ্ধারের সম্ভাবনা কতটুকু, একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে করণীয় কী ইত্যাদি।

গত ২০ এপ্রিল কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দেয়। আজ জমা দিল চূড়ান্ত প্রতিবেদন।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। ফিলিপাইনের একটি পত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।