কক্সবাজারে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার, হরতাল চলছে » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Hartal_cox-BG-220130215212909বার্তাবাংলা ডেস্ক ::শুক্রবার জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে।শনিবার সকাল ১০টায় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করেন।

এদিকে, শুক্রবার দুপুরের ওই সংঘর্ষে নিহত ৪ জন নিজেদের কর্মী দাবি করে সাঈদী মুক্তি পরিষদের ব্যানারে শনিবার সকাল থেকে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল করছে জামায়াত-শিবির।

তবে সকাল থেকে কক্সবাজার শহরের কোথাও পিকেটিং, মিছিল বা সমাবেশ হচ্ছে না। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি সকাল ১১টা পর্যন্ত।

তারপরও কক্সবাজার থেকে কোনো দূরপাল্লার যানবাহন ছেড়ে যায়নি। প্রধান সড়কে কয়েকটি রিকশা, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। বন্ধ রয়েছে বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

এদিকে, বাজারঘাটা, পানবাজার সড়ক, হাসপাতাল সংলগ্ন কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, শুক্রবার মধ্যরাত ও শনিবার ভোরে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে তা ককটেল না গুলি বর্ষণের শব্দ জানাতে পারেননি তারা।

তারা জানান, শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।

ফলে শুক্রবারের সংঘর্ষের পর থেকে শহরের রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে গেছে। এছাড়া শনিবার সাপ্তহিক ছুটি থাকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বন্ধ রয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার জানিয়েছেন, হরতালে সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তারপরও নাশকতা এড়াতে কক্সবাজার শহর জুড়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। মাঠে রয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার দুপুরে সাঈদী মুক্তি পরিষদের ব্যানারে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ঝটিকা মিছিল বের করে জামায়াত-শিবির। মিছিল থেকে পুলিশের ওপর গুলি চালানো হয়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এসময় শিবির ককটেল বিস্ফোরণ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে শহর পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ওই ৪ জন। এরপর বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় ৩টি মামলায় শনিবার সকাল পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ২৫০ জনকে।

এদিকে, পুলিশ জানায়, এ সংঘর্ষে ৩ পথচারী নিহত হয়েছেন। এরা হলেন- কক্সবাজার শহরের রুমালিয়ারছড়া গোদার পাড়া এলাকার কলিম উল্লাহর ছেলে তোফায়েল আহামদ (২৮), সদরের ইসলামপুর ইউনিয়নের ধর্মছড়া এলাকার নুরুল আলমের ছেলে নুরুল হক (৩২) ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকার হামিদ আলীর ছেলে সালেহ আহমদ ফারুক (৪০)।

অপরদিকে, কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জিএম রহিমুল্লাহর দাবি, নিহতের সংখ্যা ৪ জন এবং ৪ জনই তাদের কর্মী।

তিনি জানান, নিহত অপরজন হলেন কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের মোক্তার আহমদের ছেলে আবদুল্লাহ (৪৫)। তবে তার মৃতদেহটি কোথায় তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি তিনি।

শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা প্রণব চাকমা জানিয়েছেন, লাশ ৩টি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »