বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Dhaka-Batবার্তাবাংলা ডেস্ক ::ক্রিস গেইলের দুর্দান্ত শতকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ‘রেইস টু দ্য ফাইনাল’ এ সিলেট রয়্যালসকে নাটকীয়ভাবে ৪ রানে হারিয়েছে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স।

গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা খেলবে ফাইনালে। শনিবার চট্টগ্রাম কিংস ও দুরন্ত রাজশাহীর মধ্যকার প্রথম সেমিফাইনালে জয়ী দলের বিপক্ষে রোববার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলবে সিলেট।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৯৭ রান করে ঢাকা। জবাবে ৬ উইকেটে ১৯৩ রানে থেমে যায় সিলেটের ইনিংস।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৮ রানে শিবনারায়ণ চন্দরপল (৫) ও পল স্টার্লিংয়ের (১৬) বিদায়ে সিলেটের শুরুটা ভালো হয়নি।

দ্বিতীয় উইকেটে ডোয়াইন স্মিথের (৩৪ বলে ৪১) ৮২ ও তৃতীয় উইকেটে নাজমুল মিলনের (১০) সঙ্গে ৪৪ রানের দুটি ভালো জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরান অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

জয়ের জন্য ২৪ রান প্রয়োজন ছিল সিলেটের। শেষ ওভার করতে আসেন ঢাকার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। এল্টন চিগুম্বুরা প্রথম দুই বলে ছক্কা হাঁকিয়ে সমীকরণটা সহজ করে দেন। তৃতীয় বলে এক নিয়ে স্ট্রাইক দেন মুশফিককে।

শেষ তিন বলে প্রয়োজন ছিল ১১ রান। ওয়াইড থেকে পরের বলে আসে একটি রান। চতুর্থ বলটি মারতে গিয়ে এনামুল হক বিজয়ের ক্যাচে পরিণত হয়েও ‘নো’ এর কল্যাণে বেঁচে যান মুশফিকুর রহিম।

‘ফ্রি হিট’ কাজে লাগাতে পারেন নি চিগুম্বুরা। দুই রান নিয়ে চিগুম্বুরাকে স্ট্রাইকে রাখতে রান আউট হয়ে বিদায় নেন ৪৪ বলে ৫টি ছক্কা ও ৬টি চারে ৮৬ রান করা মুশফিক।

পঞ্চম বলে ডিপ স্কয়ার লেগে রকিবুল হাসানকে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গিয়ে দুই রান নিয়ে স্ট্রাইকে ফিরেন চিগুম্বুরা (৯ বলে ২৪)। শেষ বল ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে ড্যারেন স্টিভেন্সের ক্যাচে পরিণত হয়ে তিনি বিদায় নিলে পেরে উঠেনি সিলেট।

ঢাকার পক্ষে মাশরাফি ৪০ রানে ২ উইকেট নেন।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ১ রানে তিলকারত্নে দিলশান (০) ও মোহাম্মদ আশরাফুলের (১) বিদায়ে ঢাকার শুরুটা মোটেও ভালো হয় নি।

নেমেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা সাকিব আল হাসান ঢাকার ওপর থেকে চাপ সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। গেইলের সঙ্গে ৬২ রানের জুটি গড়ার পথে ২১ বলে ৪টি ছক্কা ও দুটি চারের সাহায্যে ৩৮ রান করেন তিনি।

দলীয় ৬৩ রানে সাকিবের বিদায়ের পর স্টিভেন্স ও বিজয় রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরের পথ ধরলে ভীষণ চাপে পড়ে গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা।

১০ ওভার শেষে ৬৮ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা ঢাকাকে দুশর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব গেইলের। উনিশতম ওভারে সাজঘরে ফেরার আগে ১১৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি।

গেইলের ৫১ বলের ইনিংসে ১২টি ছক্কা ও ৫টি চার। বিপিএলে এটি গেইলের তৃতীয় শতক। প্রথম আসরে বরিশাল বার্নার্সের হয়ে দুটি শতক করেন তিনি। এর একটি ছিল ঢাকার বিপক্ষে।

সেই ম্যাচে ১১টি ছক্কার রেকর্ড গড়েছিলেন গেইল। এবার সেই রেকর্ড নতুন করে লিখলেন তিনি। সাবেক সতীর্থ বরিশালের অধিনায়ক ব্র্যাড হজের বিপিএল রেকর্ড (২৩ ম্যাচে ৩২) ছক্কার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন তিনি। ৬ ম্যাচেই গেইল হাঁকিয়েছেন ৩৮টি বিশাল ছক্কা।

নাজমুল মিলনের প্রথম ৩ বল থেকে ২৬ রান তুলে নিয়ে চতুর্থ বলে ব্যক্তিগত ৯৭ রানে পল স্টার্লিংকে একটি সুযোগ দিয়েছিলেন তিনি।

গেইলের বিদায়ের পর মাশরাফি ও মোশাররফ হোসেন দ্রুত বিদায় নিলে দুশ পর‌্যন্ত যেতে পারে নি ঢাকা।

২৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সিলেটের সেরা বোলার মৌসুমে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা সাজিদুল ইসলাম। এছাড়া মোহাম্মদ নবী ও সোহাগ গাজী দুটি করে উইকেট নেন।

এই ম্যাচের জয়ী দল খেলবে ফাইনালে। হেরে যাওয়া দলের সামনেও ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে রোববার অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে জিততে হবে তাদের।

এর আগে শনিবার প্রথম সেমিফাইনালে খেলবে চট্টগ্রাম কিংস ও দুরন্ত রাজশাহী। জয়ী দল খেলবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »