পান্থ রহমান »

সেনাবাহিনীর প্রাক্তন মেজর, বর্তমানে কাজ করেন দেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স-এ। গোয়েন্দা মিশনে সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়ান তিনি। তার একটি সাংকেতিক নামও আছে। নারীদের সাথে তার খুব অন্তরঙ্গ সম্পর্ক, তবে কাউকেই বাঁধনে জড়ান না।

চরিত্রটি চেনা চেনা মনে হচ্ছে আপনার? না, ইনি জেমস বন্ড নন। ইনি হলেন মাসুদ রানা। তার কোড নেম এমআর-নাইন। বাংলা সাহিত্যে যে কয়টি গোয়েন্দা চরিত্র আছে, তারমধ্যে সবচে’ জনপ্রিয় হলো মাসুদ রানা। এ বছরের মে মাসে চরিত্রটি ৫০ বছরে পা দিয়েছে।
মাসুদ রানা ১৯৬৬ সালে ‘ধ্বংস পাহাড়’ নামের একটি বইয়ের মধ্যে দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। সুলেখক কাজী আনোয়ার হোসেন এই চরিত্রের স্রষ্টা। মাসুদ রানা চরিত্রটিকে বৃটিশ লেখক ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্ট জেমস বন্ড চরিত্রটির বাঙালি সংস্করণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মাসুদ রানা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কাল্পনিক গোয়েন্দা বিশ্বে রাজত্ব করে যাচ্ছে। সত্তর ও আশির দশকে চরিত্রটি সাংস্কৃতিক আইকন হয়ে উঠেছিল। এই চরিত্রকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত প্রায় চার শতাধিক বই লেখা হয়েছে।

অনেকের মতে মাসুদ রানা সিরিজ লিখতে গিয়ে তিনি সমসাময়িক জনপ্রিয় পশ্চিমা স্পাই থ্রিলার থেকে নানা কিছু ধার নিয়েছেন। তবে ভিডিও গেইমস, ক্যাবল টিভি, ইন্টারনেট যুগের আগে এটিই বাংলাভাষী তরুণদের মনের খোরাক মিটিয়েছে।

রানা চরিত্রটি নিয়ে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি সিনেমা ও নাটক নির্মাণ করা হয়েছে।
মাসুদ রানা সিরিজটি সাধারণ বাঙালি পাঠকের ঘরে যে একেবারে সাদরে গ্রহণ করা হয়েছে, তা কিন্তু নয়। ষাট দশকের শুরুতে মাসুদ রানা সিরিজের বইয়ে উল্লেখিত নর-নারীর বিবাহ-বহির্ভূত যৌনতাশ্রয়ী সম্পর্কের বিবরণ পাঠকসমাজকে কিছুটা হলেও থমকে দিয়েছিলো। যারা এ সকল পেপারব্যাক বই পড়তো, তাদেরকেও খারাপ নজরে দেখা হতো।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »